ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

সৈয়দপুরে পাঁচ মাড়োয়ারী নারীর জহরব্রত – সতীত্ব রক্ষার মর্মান্তিক আত্মবলিদান

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
২৫ জুন ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
২৫ জুন ২০২৫, ০১:৩৭ পিএম
পাকিস্তানি বাহিনী ধর্ষণকে যুদ্ধকৌশলের অংশ করে নিয়েছিল
পাকিস্তানি বাহিনী ধর্ষণকে যুদ্ধকৌশলের অংশ করে নিয়েছিল

১৯৭১ সালের ২৫ জুন, সৈয়দপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে পাঁচ মাড়োয়ারী নারী জহরব্রত (আত্মদাহ) করে প্রাণ বিসর্জন দেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন শ্রীরামলাল আগরওয়ালা, যিনি পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে ভারতে পালিয়ে আসতে পেরেছিলেন।

ঘটনার পটভূমি

  • শ্রীরামলাল ও তার পরিবারকে পাকিস্তানি সেনারা দুই মাস ধরে আটক রেখে ক্রীতদাসের মতো কাজ করতে বাধ্য করে। তাদের সৈয়দপুরের রাস্তা ও সেতু মেরামতের কাজে লাগানো হয়।

  • ১৩ জুন, পাকিস্তানি সেনারা প্রায় ৩০০ বাঙালি ও মাড়োয়ারী পুরুষ-মহিলাকে একটি ট্রেনে তোলে। নারীদের আলাদা কামরায় রাখা হয়।

নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও নারীদের আত্মদাহ

  • ট্রেনটি কিছু দূর যাওয়ার পর থামানো হয়। পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় স্থানীয় গুন্ডারা ট্রেনে হামলা চালায় এবং পুরুষদের নির্মমভাবে হত্যা করে রেললাইনের পাশে খনন করা ট্রেঞ্চে ফেলে দেয়

  • এরপর তারা নারীদের কামরার দিকে এগিয়ে যায়। নারীরা বুঝতে পারেন যে তাদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হবে। সতীত্ব রক্ষার জন্য শ্রীরামলালের মা, দুই বোন, বৌদি ও ভাইঝি শাড়িতে আগুন লাগিয়ে জহরব্রত (আত্মদাহ) করেন। তাদের আর্তনাদে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।

একমাত্র জীবিত সাক্ষী

শ্রীরামলাল আগরওয়ালা কোনভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। তিনি ভারতে পৌঁছে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা জানান। তার ভাষ্যে, "আমার পরিবারের পাঁচ নারী শাড়িতে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিলেন, যাতে পাকিস্তানি পশুদের হাতে ধর্ষণ বা অপমানের শিকার না হতে হয়।"

ঘটনার তাৎপর্য

  • এটি ছিল নারীদের উপর পাকিস্তানি বাহিনীর যৌন সহিংসতা ও গণহত্যার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত

  • জহরব্রতের মতো চরম আত্মবলিদান দেখায় যে, অনেক নারীই ধর্ষণ ও অপমানের চেয়ে মৃত্যুকে বেছে নিয়েছিলেন।

  • এই ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় (মাড়োয়ারী হিন্দু) এর উপর নির্যাতনেরও প্রমাণ

স্মরণ ও সাক্ষ্য

এই ঘটনাটি ১৯৭১-এর গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের একটি করুন অধ্যায়। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এই খবরটি সেই সময় আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন তুলেছিল।

সূত্র

  • আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৫ জুন ১৯৭১

  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারী নির্যাতনের দলিল

  • শ্রীরামলাল আগরওয়ালার সাক্ষাৎকার (প্রকাশিত রিপোর্ট)

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২৮ আগস্ট ১৯৭১: মোগরার বিল গণহত্যা (মোহনপুর, রাজশাহী)

২৮ আগস্ট ১৯৭১: পাকুড়িয়া গণহত্যা (মান্দা, নওগাঁ)

২৮ আগস্ট ১৯৭১: দিরাই ও শাল্লা এলাকা হানাদারমুক্ত হয়

২৭ আগস্ট ১৯৭১: দেয়াড়া গণহত্যা (খুলনা)

২৭ আগস্ট ১৯৭১: কচুয়া বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

২৭ আগস্ট ১৯৭১: লাতিন আমেরিকায় পাকিস্তানি গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রস্তাব

২৬ আগস্ট ১৯৭১: নারী নির্যাতনে ইয়াহিয়ার সৈন্যরা মধ্যযুগের বর্বরতাকে হার মানিয়েছে

২৫ আগস্ট ১৯৭১: সিলেটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অমানুষিক অত্যাচার

২৫ আগস্ট ১৯৭১: মানসা গণহত্যা ও বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

২৭ আগস্ট ১৯৭১: লন্ডনে প্রবাসী সরকারের কূটনীতিক মিশন উদ্বোধন

১০

২৫ আগস্ট ১৯৭১: কানলা গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১১

২৬ আগস্ট ১৯৭১: পূর্বপাড়া ওয়ারলেস কেন্দ্র গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১২

২৬ আগস্ট ১৯৭১: পশ্চিমগ্রাম গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১৩

২৬ আগস্ট ১৯৭১: দাসপাড়া গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১৪

২৬ আগস্ট ১৯৭১: কুণ্ডুবাড়ি হত্যাকাণ্ড

১৫

২৬ আগস্ট ১৯৭১: তীব্র আক্রমণের মুখে হানাদার বাহিনী কানসাট ছেড়ে পালায়

১৬

২৫ আগস্ট ১৯৭১: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এক ঘটনাবহুল দিন

১৭

২৪ আগস্ট ১৯৭১: দেশজুড়ে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ যুদ্ধ

১৮

২৩ আগস্ট ১৯৭১: পাকিস্তানি বাহিনীর জগন্নাথদিঘি ঘাঁটিতে আক্রমণ মুক্তিবাহিনীর

১৯

২১ আগস্ট ১৯৭১: পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ ইরাকে নিযুক্ত বাঙালি রাষ্ট্রদূতের

২০