ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

বসুনিয়াপাড়া-বাড়াইপাড়া গণহত্যা: কিশোরগঞ্জের এক কলঙ্কিত অধ্যায়

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
২৪ জুন ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম
২৪ জুন ২০২৫, ০১:১১ পিএম
পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা মিলে ১৯৭১ সালে এই দেশে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে গণহত্যা চালিয়েছে যা বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞ | ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা মিলে ১৯৭১ সালে এই দেশে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে গণহত্যা চালিয়েছে যা বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞ | ছবি: সংগৃহীত

(২৪ জুন, ১৯৭১)

ঘটনাস্থল ও পটভূমি

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত বসুনিয়াপাড়া ও বাড়াইপাড়া গ্রাম। ১৯৭১ সালের ২৪ জুন এখানে সংঘটিত হয় এক নির্মম গণহত্যা।

হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা

পাকিস্তানি সেনা ক্যাপ্টেন জাবেদের নেতৃত্বে এবং স্থানীয় রাজাকার আবেদ হাজী, তসলিম দফাদার ও শমসের সর্দার-এর সহযোগিতায় এ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন রাজাকাররা হিন্দুপাড়া লুণ্ঠনের চেষ্টা করে। স্থানীয়রা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করলে রাজাকাররা পিছু হটে। এর প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা ২৪ জুন বসুনিয়াপাড়া, নলকুড়িপাড়া ও বাড়াইপাড়ায় গণহত্যা চালায়।

শহীদদের তালিকা

  • বসুনিয়াপাড়া: সেলিম উদ্দিন, মাত, শুকারু, হাছিনা (শুকারুর কন্যা)

  • বাড়াইপাড়া: আতাহার, আতিয়ার রহমান, আছিম উদ্দিন, মহিউদ্দিন ও তার স্ত্রী

  • অন্যান্য গ্রাম থেকে: সালেম উদ্দিন (বড়ভিটা), রমিজ উদ্দিন (বড়ভিটা), ইরফান আলী (বেতগাড়ি), ঢোডা (চওড়াবাড়ি)

লাশগুলো প্রথমে বসুনিয়াপাড়ার আফসার আলীর বাড়ির একটি গর্তে পুঁতে রাখা হয়। পরবর্তীতে স্বজনরা সেগুলো উত্তোলন করে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।

নারী নির্যাতনের মর্মান্তিক ঘটনা

  • শমসের সর্দার পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে তার চাচা টোরা সর্দার ও চাচি রোকেয়া বেগম-কে রাজাকার আবেদ হাজীর মাধ্যমে পাকসেনাদের হাতে তুলে দেয়।

  • মালুতি রাণী নামে এক নারী গণধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

  • বাড়াইপাড়ার এক গৃহবধূ ও রোকেয়া বেগমও পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন।

স্মরণ ও সতর্কতা

এ গণহত্যা শুধু একটি স্থানীয় ঘটনা নয়, এটি ১৯৭১-এর গণহত্যার একটি প্রতীকী দলিল। আজও এই বর্বরতার সাক্ষী গ্রামবাসী। তাদের স্মৃতিচারণ ও স্থানীয় দলিলপত্র এই ইতিহাসকে সংরক্ষণ করছে।

তথ্যসূত্র

  • স্থানীয় সাক্ষাৎকার ও গণহত্যা জরিপ রিপোর্ট

  • আহম্মেদ শরীফ (স্থানীয় ইতিহাস গবেষক)

  • মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২৮ আগস্ট ১৯৭১: মোগরার বিল গণহত্যা (মোহনপুর, রাজশাহী)

২৮ আগস্ট ১৯৭১: পাকুড়িয়া গণহত্যা (মান্দা, নওগাঁ)

২৮ আগস্ট ১৯৭১: দিরাই ও শাল্লা এলাকা হানাদারমুক্ত হয়

২৭ আগস্ট ১৯৭১: দেয়াড়া গণহত্যা (খুলনা)

২৭ আগস্ট ১৯৭১: কচুয়া বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

২৭ আগস্ট ১৯৭১: লাতিন আমেরিকায় পাকিস্তানি গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রস্তাব

২৬ আগস্ট ১৯৭১: নারী নির্যাতনে ইয়াহিয়ার সৈন্যরা মধ্যযুগের বর্বরতাকে হার মানিয়েছে

২৫ আগস্ট ১৯৭১: সিলেটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অমানুষিক অত্যাচার

২৫ আগস্ট ১৯৭১: মানসা গণহত্যা ও বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

২৭ আগস্ট ১৯৭১: লন্ডনে প্রবাসী সরকারের কূটনীতিক মিশন উদ্বোধন

১০

২৫ আগস্ট ১৯৭১: কানলা গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১১

২৬ আগস্ট ১৯৭১: পূর্বপাড়া ওয়ারলেস কেন্দ্র গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১২

২৬ আগস্ট ১৯৭১: পশ্চিমগ্রাম গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১৩

২৬ আগস্ট ১৯৭১: দাসপাড়া গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১৪

২৬ আগস্ট ১৯৭১: কুণ্ডুবাড়ি হত্যাকাণ্ড

১৫

২৬ আগস্ট ১৯৭১: তীব্র আক্রমণের মুখে হানাদার বাহিনী কানসাট ছেড়ে পালায়

১৬

২৫ আগস্ট ১৯৭১: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এক ঘটনাবহুল দিন

১৭

২৪ আগস্ট ১৯৭১: দেশজুড়ে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ যুদ্ধ

১৮

২৩ আগস্ট ১৯৭১: পাকিস্তানি বাহিনীর জগন্নাথদিঘি ঘাঁটিতে আক্রমণ মুক্তিবাহিনীর

১৯

২১ আগস্ট ১৯৭১: পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ ইরাকে নিযুক্ত বাঙালি রাষ্ট্রদূতের

২০