ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

ধামুসা গণহত্যা (কালকিনি, মাদারীপুর)

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৫, ০১:৫৪ পিএম
ধামুসা গণহত্যা (কালকিনি, মাদারীপুর)

১৯৭১ সালের ৩০ জুন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ধামুসা গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা এক নৃশংস গণহত্যা চালায়। এ হত্যাকাণ্ডে ২৩ জন নিরীহ বাঙালি নিহত হন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ

  • স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা ধামুসা গ্রামে ব্যাপক আক্রমণ চালায়।

  • পুরো গ্রামজুড়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়—কোনো নির্দিষ্ট বধ্যভূমি নয়, বরং গ্রামটিকেই তারা রক্তাক্ত করে তোলে।

  • একটি পরিবারের ভাবি (বৌ) ও ননদকে ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনারা। তাদের ধর্ষণের পর বেয়নেট দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর ডাসার সৈয়দ আতাহার আলী ডি কে আইডিয়াল কলেজের সামনের খালে তাদের লাশ ভাসতে দেখা যায়।

  • গৌরনদীর বাকাই-কুমারবাড়ি দিয়ে ধামুসায় প্রবেশের পথে মোতাহার মাতুব্বর (ডাসার গ্রাম) ও রফি বয়াতি (পশ্চিম খান্দলি গ্রাম) নামে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

শহীদদের তালিকা

ধামুসা গ্রামের পাশাপাশি ডাসার ও পশ্চিম খান্দলির বাসিন্দারা এ গণহত্যার শিকার হন। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:

  • রফি বয়াতি (পিতা: দলিল উদ্দিন বয়াতি, পশ্চিম খান্দলি গ্রাম)
  • মোতাহার মাতুব্বর (পিতা: মোকছেদ আলী মাতুব্বর, ডাসার গ্রাম)
  • নিরঞ্জন গুপ্ত (পিতা: অমর চান গুপ্ত)
  • হরিচরণ গুপ্ত (পিতা: এককড়ি গুপ্ত)
  • কালাচান সরকার (পিতা: গোসাই সরকার)
  • ললিত কুমার গুপ্ত (পিতা: শ্রীচরণ গুপ্ত)
  • কার্তিক চন্দ (পিতা: মদন চন্দ)
  • সদানন্দ বৈদ্য (পিতা: শশী বৈদ্য)
  • রঘুনাথ ঢালী (পিতা: রাম কিশোর ঢালী)
  • ধলু বিশ্বাস (পিতা: সেকেন্দার বিশ্বাস)
  • লালু ঘরামি (পিতা: কালীচরণ ঘরামি)
  • মদন চন্দ (পিতা: চন্দ্রনাথ চন্দ)
  • হেমন্ত বেপারী (পিতা: জীবন বেপারী)
  • সুমতি রানী গুপ্ত (পিতা: জীবন গুপ্ত)
  • বৃহস্পতি গুপ্ত (পিতা: অনন্ত গুপ্ত)
  • রাজেন্দ্রলাল বাড়ৈ
  • কুঞ্জ বিহারী
  • বাবুল
  • গোপাল বিশ্বাস
  • একজন নারী ও তার ননদ (নাম অজানা)
  • আরো দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি

স্মৃতির মর্যাদা ও সূত্র

ধামুসা গণহত্যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক করুণ অধ্যায়। স্থানীয়রা আজও এই বর্বরতার স্মৃতি ধরে রেখেছেন। নিহতদের স্মরণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মারক না থাকলেও, তাদের আত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় অমলিন।

সূত্র:

  • বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ (৫ম খণ্ড)

  • স্থানীয় সাক্ষাৎকার ও মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১২ এপ্রিল ১৯৭১: সরকারের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব ও বালারখাইলের রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি

রক্ষাকালী মন্দির গণহত্যা: পাবনার এক রক্তাক্ত অধ্যায়

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম ভাষণ

১১ এপ্রিল ১৯৭১: তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ ও সংগঠিত প্রতিরোধের সূচনা

১০ এপ্রিল ১৯৭১: বাংলাদেশের প্রথম সরকার ও স্বাধীনতার সনদ

১০ এপ্রিল ১৯৭১: যখন যুদ্ধের অন্ধকারে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আইনি সূর্য

০৫ এপ্রিল ১৯৭১: বহুমুখী যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

১০

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

১১

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

১২

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

১৩

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

১৪

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

১৫

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

১৬

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

১৭

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১৮

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১৯

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

২০