ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
শহীদ বুদ্ধিজীবী

রিয়াছত আলী

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৫, ০৫:২৩ পিএম
রিয়াছত আলী

পেশা শিক্ষকতা হলেও কাব্যচর্চা করে খ্যাতি লাভ করেছিলেন সুনামগঞ্জের রিয়াছত আলী। আসামের গৌড়বঙ্গ সাহিত্য পরিষদ তাঁকে দিয়েছিল কবিরত্ন উপাধি। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজ ও প্রগতিশীল রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর এলাকার যুবকদের যুদ্ধে অংশ নিতে উৎসাহিত করতেন। এ কারণে স্থানীয় রাজাকাররা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একাত্তরের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজাকারের দল তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে গুলি করে হত্যা করে। রক্তাক্ত লাশ উঠানে ফেলে রেখে যায়।

রিয়াছত আলীর জন্ম ১৯৩২ সালে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের মইনপুর গ্রামে। বাবা এজাবত আলী, মা পরিজান বিবি। সিলেটের এইডেড স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর ১৯৬১ সালে প্রাইভেটে পরীক্ষা দিয়ে উচ্চমাধ্যমিক ও ১৯৬৪ সালে বিএ পাস করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএড করেন। এরপর তিনি ঢাকার ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

শহীদ রিয়াছত আলী রাজনীতিতে ছিলেন সক্রিয়। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপের (ভাসানী) প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। সিলেটে থাকাকালে তিনি কচিকাঁচার আসরের প্রতিষ্ঠাতা জেলা সভাপতি ছিলেন। শহরে যে বাসায় তিনি থাকতেন, সেটির নাম ছিল শিল্প আশ্রম। এই বাসায় তাঁর ব্যবস্থাপনায় এলাকার শিশু-কিশোরেরা গান ও ছবি আঁকা শিখত। তিনি কবিতা, গান ও প্রবন্ধ লিখতেন।

১৯৫৪ সালে ঢাকায় যুক্তফ্রন্টের বিভাগীয় সম্মেলনে সিলেট বিভাগ থেকে ছয় ছাত্রনেতা আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে রিয়াছত আলী একজন। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের সময় তাঁর গান সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় গাওয়া হতো। সিলেটের শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মো. আবদুল আজিজের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সিলেট গ্রন্থে রিয়াছত আলীর ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী প্রকাশনীর শহীদ বুদ্ধিজীবীকোষ গ্রন্থে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী রয়েছে।

রিয়াছত আলীর ছাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. চান মিয়া জানান, তিনি নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় যুদ্ধে যান। রিয়াছত আলীর প্রেরণায় তাঁদের স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণির ১১ জন ছাত্র যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রিয়াছত স্যার ছিলেন আলোকিত মানুষ। রাজাকাররা তাঁকে বাঁচতে দেয়নি।

রিয়াছত আলীর স্ত্রী জমিলা খাতুনও মইনপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ও পরে সিলেটের আম্বরখানা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি মারা যান। মেয়ে আনারকলি যুক্তরাজ্যে থাকেন। ছেলে কামাল আহমেদ কানাডা থেকে ফোনে প্রথম আলোকে জানান, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর মায়ের কাছে সমবেদনা জানিয়ে চিঠি ও দুই হাজার টাকার অনুদান পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আক্ষেপ, বাবার নাম শহীদ বুদ্ধিজীবীর সরকারি তালিকায় ওঠেনি।

প্রথম প্রকাশ: প্রথম আলো

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সহিংসতার নতুন উচ্চতা / মব হত্যা দ্বিগুণ, অজ্ঞাত লাশ বেড়েছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন তীব্র

জঙ্গি সংগঠনগুলোর ন্যারেটিভ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুক্তির আহ্বান ও শ্বাশত মুজিব’

সবচেয়ে উঁচুতে দাঁড়িয়ে ‘বীর’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি

ইতিহাসের সাক্ষী ঝিনাইদহের ‘প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ফলক’

স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ

পবিপ্রবির ‘মুক্ত বাংলা’: উপকূলীয় জনপদে স্বাধীনতার অবিনাশী প্রতীক

কারাগারের গেটে স্ত্রী-সন্তানের লাশ: একটি রাষ্ট্রের নৈতিক পতনের চিত্র

১০

ঔপনিবেশিক আমলে বাঙালি নারী ও তাদের বিলাতযাত্রা

১১

নির্বাচনের মাঠে ধর্মের কার্ড: গণতন্ত্রের জন্য হুমকি?

১২

নারী ভোটারদের এনআইডি কপি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ আশঙ্কাজনক: মাহদী আমিন

১৩

সরকারের কাছে পাওনা ৪ হাজার কোটি টাকা / অর্থাভাবে বন্ধ হতে পারে বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

১৪

নয়া প্ল্যাটফর্ম নয়, পুরানো ভণ্ডামির নতুন দোকান

১৫

ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ের উদ্যোগ বন্ধ হোক

১৬

জামায়াতে ইসলামী অনুতপ্ত নয় একাত্তরের জন্য ক্ষমা চায়নি

১৭

নিজে নিজে না নিভলে নেভে না যে আগুন

১৮

বৈষম্যের অভিশাপ / নতুন প্রজন্ম কি কেবলই একটি ‘বন্দি’ প্রজন্ম?

১৯

ঋণের বোঝায় বাড়ছে আত্মহত্যা: অর্থনৈতিক সংকটের ছায়ায় এক চলমান মানবিক বিপর্যয়

২০