ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
শহীদ বুদ্ধিজীবী

কোরবান আলী

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
০২ জুন ২০২৫, ০৫:৩৪ পিএম
২০ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৩৫ পিএম
কোরবান আলী

কোরবান আলী ছিলেন একজন গুণী মানুষ। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। ফরিদপুর জেলা বোর্ডের স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি করেছেন। অর্থবিত্তের প্রতি লোভ ছিল না। সাধারণ জীবন যাপন করতেন। সর্বশেষ কর্মস্থল ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা থেকে তিনি একাত্তরের ১৫ মে নিখোঁজ হন। পরিবারের লোকেরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, পাকিস্তানি হানাদার সেনারা তাঁকে হত্যা করেছে। তবে স্বজনেরা লাশ পাননি।

কোরবান আলীর জন্ম ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দুর্গাপুরে। তাঁর বাবা মহিউদ্দীন মিঞা কৃষিজীবী, মা এসমা খাতুন। তাঁদের তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে কোরবান আলী ছিলেন সবার বড়। শৈশব থেকেই খেলাধুলা ও অভিনয়ের অনুরাগী ছিলেন। নবাবগঞ্জ এইচ এম ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৪৭ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৫২ সালে তৎকালীন রাজশাহী মেডিকেল স্কুল থেকে এলএমএফ পাস করে ফরিদপুর জেলা বোর্ডের স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরিতে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি ফরিদপুর, সাজাইল, ভাঙ্গা ও বোয়ালমারীর চ্যারিটেবল ডিসপেনসারিতে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। সাহিত্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত বায়জীদ খুরশীদ রিয়াজের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ চিকিৎসক জীবনকোষ এবং আগামী প্রকাশনীর শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থে কোরবান আলীর সংক্ষিপ্ত জীবনী রয়েছে।

চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলা করতেন। মঞ্চনাটকে অভিনয় করে তিনি প্রশংসিত

হয়েছেন। এ ছাড়া দাবা, ফুটবল ও ভলিবলে পারদর্শী ছিলেন। ফরিদপুর এলাকায় রেডক্রস আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নিজ গ্রামে ও কর্মস্থলে পাঠাগার গড়ে তুলেছিলেন। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিতেন। যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও।

শহীদ কোরবান আলী বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বুঝতে পেরে গণহত্যা শুরুর আগেই একাত্তরের ২০ মার্চ তিনি স্ত্রী সালেহা বেগম ও চার ছেলেকে গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুর্গাপুরে পাঠিয়ে দেন। স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় থাকায় স্থানীয় পাকিস্তানপন্থীরা কোরবান আলীর ওপর নাখোশ ছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বোয়ালমারীতে থাকা কোরবান আলীর পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি গ্রামে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে গ্রামের বাড়ি থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ফরিদপুরে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করে কোরবান আলীর কোনো খোঁজ পাননি। তাঁরা ফরিদপুরে তাঁর অফিসেও যোগাযোগ করেন। অবশেষে অফিস থেকে তাঁর স্ত্রীর কাছে একাত্তরের ১০ জুন চিঠি দিয়ে জানানো হয়, কোরবান আলী ১২ মে ছুটি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলে গেছেন। এরপর তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা জুলাই মাসের শেষ দিকে ফরিদপুরে এসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, পাকিস্তানি হানাদার সেনারা কোরবান আলীকে হত্যা করেছে।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কাছে সমবেদনা জানিয়ে চিঠি ও দুই হাজার টাকার অনুদান পাঠিয়েছিলেন। তাঁর চার ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আবু রাকিব চিকিৎসক, দ্বিতীয় ছেলে আবু হাসিব চাঁপাইনবাবগঞ্জের আইনজীবী। অন্য দুই ছেলে আবু নাসিব ও আবু নাকিব ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁরা মারা গেছেন। কোরবান আলী যেন শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পান, এটাই পরিবারের প্রত্যাশা।

প্রথম প্রকাশ: প্রথম আলো

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন

৭ জুন ১৯৭১: বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা ও অবরুদ্ধ বাংলায় প্রতিরোধ

৬ জুন ১৯৭১: অসাম্প্রদায়িকতার ডাক, রাজনৈতিক সমাধানের ৪ শর্ত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক, কোন দেশে কত?

বাড়ল বিদ্যুতের দাম, মূল্যস্ফীতির আগুনে নতুন চাপ

নাটোরের ছাতনী গণহত্যা

৪ জুন ১৯৭১: ছাতনীতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, আন্তর্জাতিক চাপ ও রণাঙ্গনে প্রতিরোধ

৩ জুন ১৯৭১: জাতিসংঘে তোলপাড়, বিশ্ব জনমত গঠন ও রণাঙ্গনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত

তোফায়েল আহমেদ / বর্ণাঢ্য রাজনীতির এক ফিনিক্স পাখি

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ আর নেই

১০

১ জুন ১৯৭১: নগরকান্দা গণহত্যা, রণাঙ্গনে বিজয় ও বিশ্ব কূটনীতির নতুন মোড়

১১

৩১ মে ১৯৭১: ‘সমঝোতার সুযোগ নেই’, বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ও রণাঙ্গনের খণ্ডচিত্র

১২

৩০ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, রণাঙ্গনের প্রতিরোধ ও বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গন

১৩

রক্তস্নাত বুরুঙ্গা গণহত্যা (সিলেট)

১৪

২৬ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, প্রতিরোধ ও বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গন

১৫

ভীমনালী গণহত্যা: যে নির্মম ট্র্যাজেডি আজও এক উপেক্ষিত

১৬

২২ মে ১৯৭১: গণহত্যা, প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি

১৭

১৬২ পয়েন্টে ১৬০০ গডফাদার: কার ইশারায় ঢুকছে মাদক?

১৮

হত্যা মামলায় রক্তাক্ত সাংবাদিকতা

১৯

১৮ মে ১৯৭১: পাকিস্তানের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ ও কূটনৈতিক যুদ্ধ

২০