ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি

বাংলাদেশের মাটির প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগ করা এক একটি নাম, এক একটি অমর ইতিহাস। সেই ইতিহাসের মহানায়কদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য স্মারক ভাস্কর্য ও স্মৃতিস্তম্ভ।

সাভারের আকাশচুম্বী জাতীয় স্মৃতিসৌধ যেখানে সাতটি ধাপে সংগ্রামের ইতিহাস বলে, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অপরাজেয় বাংলা' আমাদের মনে করিয়ে দেয় অদম্য তারুণ্যের শক্তি। রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিটি স্থাপনা যেন পাথরের ক্যানভাসে খোদাই করা এক একটি রক্তঝরা কাব্য।

এই ভাস্কর্যগুলো কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এগুলো আমাদের শেকড়ের পরিচয়। কর্মব্যস্ত দিনে পথ চলতে চলতে যখনই আমরা এই স্মারকগুলোর দিকে তাকাই, মুহূর্তেই মাথা নত হয়ে আসে সেইসব বীরদের প্রতি, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন মানচিত্রের নাগরিক। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এই ভাস্কর্যগুলো দিচ্ছে দেশপ্রেমের অবিরাম প্রেরণা।

ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ ফরিদপুরের শেখ জামাল স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে অবস্থিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৯১ সালে বধ্যভূমি হিসেবে সনাক্তকরণের পর ২০১৮ সালে বর্তমান স্মৃতিস্তমটি নির্মাণ করা হয়

অবস্থান

বধ্যভূমিটি ফরিদপুর পৌরসভার দক্ষিণ কালীবাড়ি এলাকায় শেখ জামাল স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে অবস্থিত। বধ্যভূমির উত্তর দিকে ফরিদপুর জজ কোর্ট অবস্থিত।

ইতিহাস

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ফরিদপুর স্টেডিয়ামে (বর্তমানে শেখ জামাল স্টেডিয়াম) তাদের ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। পাকিস্তানি সেনারা এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে মুক্তিকামী তরুণদের ধরে এনে বন্দি করে হত্যা করত। হত্যা করে স্টেডিয়ামের পূর্বপাশের পুকুর পাড়ে মৃত ব্যক্তিকে মাটি চাপা দেওয়া হতো। ঠিক কতজনকে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয় তা জানা যায়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় লাভের কয়েকদিন পর ওই বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায়।

১৯৯১ সালে মুক্তিযোদ্ধা ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদ বাবুল গণকবরের জায়গাটি চিহ্নিত করে ছোট আকারের একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি বলেন “স্টেডিয়ামের পুকুর পাড়ে গণকবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম ১৯৯১ সালে। ওই সময় মাটি খুঁড়ে মাথার খুলি, নারীদের শাখা, চুল, চুড়িসহ কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। ”

২০১৮ সালে এখানে বর্তমান স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। স্মৃতিস্তম্ভটি প্রায় ৭ কোটি ২১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের পাশে একটি লেক ও দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আজ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’

‘বারবার মামলা না দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেন’

আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

সিঙ্গাপুরেও মিলল বাড়ি ও ব্যাংক হিসাব / সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ১০ হাজার কোটি টাকার বিদেশি সম্পদ জব্দ

​​​​​​​শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে ৩ জনের লাশ উদ্ধার

মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠক: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সংলাপ ও নিরাপদ সমুদ্রপথের তাগিদ

গুলশানে আ’লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৩২

সমকাল কার্যালয়ে সাবেক ব্যুরো প্রধানের লাশ উদ্ধার

রংপুরে চার খুন: নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা, গৃহশিক্ষিকা ও পুলিশ কর্মকর্তা

যেভাবে সমন্বিত ডিজিটাল-রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল ‘গুমচর’

১০

শাহজালাল বিমানবন্দরের সামনে প্রবাসীর ২০০ গ্রাম স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ

১১

এনবিআরে বড় রদবদল: একযোগে ৩৬ অতিরিক্ত কর কমিশনার বদলি

১২

প্রণোদনার দ্বিতীয় ধাপ: ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণে আরও ১০ ব্যাংকের চুক্তি

১৩

প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল: কোন গ্রেডে কত বেতনের প্রস্তাব?

১৪

বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা / বাংলাদেশে চাকরি হারাবে ছয় লাখ মানুষ, বাড়বে দারিদ্র্য

১৫

গাজীপুরে নিখোঁজের পরদিন ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ

১৬

ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকার করুণ মৃত্যু

১৭

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৬২৬, নিখোঁজ আড়াই হাজার

১৮

রঙ-তুলিতে সম্প্রীতি ও স্বাধীনতার গল্প, পুরস্কার পেল ১২ শিশু-কিশোর

১৯

রংপুরে ৪ খুনের বিচার দাবিতে ধানমন্ডিতে মানববন্ধন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে বিতণ্ডা

২০