ঢাকা রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি

বাংলাদেশের মাটির প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগ করা এক একটি নাম, এক একটি অমর ইতিহাস। সেই ইতিহাসের মহানায়কদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য স্মারক ভাস্কর্য ও স্মৃতিস্তম্ভ।

সাভারের আকাশচুম্বী জাতীয় স্মৃতিসৌধ যেখানে সাতটি ধাপে সংগ্রামের ইতিহাস বলে, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অপরাজেয় বাংলা' আমাদের মনে করিয়ে দেয় অদম্য তারুণ্যের শক্তি। রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিটি স্থাপনা যেন পাথরের ক্যানভাসে খোদাই করা এক একটি রক্তঝরা কাব্য।

এই ভাস্কর্যগুলো কেবল ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এগুলো আমাদের শেকড়ের পরিচয়। কর্মব্যস্ত দিনে পথ চলতে চলতে যখনই আমরা এই স্মারকগুলোর দিকে তাকাই, মুহূর্তেই মাথা নত হয়ে আসে সেইসব বীরদের প্রতি, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন মানচিত্রের নাগরিক। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এই ভাস্কর্যগুলো দিচ্ছে দেশপ্রেমের অবিরাম প্রেরণা।

ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ ফরিদপুরের শেখ জামাল স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে অবস্থিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৯১ সালে বধ্যভূমি হিসেবে সনাক্তকরণের পর ২০১৮ সালে বর্তমান স্মৃতিস্তমটি নির্মাণ করা হয়

অবস্থান

বধ্যভূমিটি ফরিদপুর পৌরসভার দক্ষিণ কালীবাড়ি এলাকায় শেখ জামাল স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে অবস্থিত। বধ্যভূমির উত্তর দিকে ফরিদপুর জজ কোর্ট অবস্থিত।

ইতিহাস

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ফরিদপুর স্টেডিয়ামে (বর্তমানে শেখ জামাল স্টেডিয়াম) তাদের ঘাঁটি স্থাপন করেছিল। পাকিস্তানি সেনারা এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে মুক্তিকামী তরুণদের ধরে এনে বন্দি করে হত্যা করত। হত্যা করে স্টেডিয়ামের পূর্বপাশের পুকুর পাড়ে মৃত ব্যক্তিকে মাটি চাপা দেওয়া হতো। ঠিক কতজনকে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হয় তা জানা যায়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় লাভের কয়েকদিন পর ওই বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায়।

১৯৯১ সালে মুক্তিযোদ্ধা ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি নূর মোহাম্মদ বাবুল গণকবরের জায়গাটি চিহ্নিত করে ছোট আকারের একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি বলেন “স্টেডিয়ামের পুকুর পাড়ে গণকবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছিলাম ১৯৯১ সালে। ওই সময় মাটি খুঁড়ে মাথার খুলি, নারীদের শাখা, চুল, চুড়িসহ কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। ”

২০১৮ সালে এখানে বর্তমান স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। স্মৃতিস্তম্ভটি প্রায় ৭ কোটি ২১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের পাশে একটি লেক ও দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত? / রাষ্ট্রপতির কণ্ঠে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আর জিয়ার ছিয়াত্তরের ৭ মার্চ পালন—বিপরীত যাত্রা

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে উত্তরণের দর্শন

পর্দার আড়ালের ইতিহাস / কেমন ছিল ৭ মার্চের ভাষণের পূর্বপ্রস্তুতি?

৭ মার্চের ভাষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা

৭ মার্চ ভাষণের বিশ্বজনীন তাৎপর্য

৭ মার্চ ১৯৭১: বাঙালির মহাকাব্য

৭ মার্চ থেকে শুরু হলো পাকিস্তানের পতন

৭ মার্চ ও শৃঙ্খলমুক্তির অবিনাশী আহ্বান

১০

যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে গার্মেন্টস কর্মীর স্বপ্ন ও আসন্ন বাজেট

১১

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বাংলাদেশের পোশাক খাত / অস্তিত্বের সংকটে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’

১২

বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘একাত্তরের ছায়া’ / তেলের বাজারে আগুন, সংকটে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন

১৩

লক্ষ্য পূরণে অনমনীয় ট্রাম্প / বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

১৪

জ্বালানি সংকটের শঙ্কা / যানবাহনে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

১৫

মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে পিছু হটতে বাধ্য করার দাবি ইরানের

১৬

ইরানের পাল্টা আঘাত / মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ছায়া, বিপাকে ট্রাম্প প্রশাসন

১৭

৬ মার্চ ১৯৭১, উত্তপ্ত বাংলা ও ইয়াহিয়ার শেষ চাল

১৮

৫ মার্চ ১৯৭১: ক্ষোভ ও প্রতিরোধে উত্তাল রক্তস্নাত জনপদ

১৯

পহেলা মার্চ দুপুর থেকেই শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন

২০