ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

২৭ আগস্ট ১৯৭১: কচুয়া বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪০ পিএম
২৭ আগস্ট ১৯৭১: কচুয়া বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানা সদরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী রাজাকারদের দ্বারা একটি বধ্যভূমি সৃষ্টি করা হয়। এই বধ্যভূমিতে অসংখ্য নিরীহ মানুষের ওপর নৃশংস অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

ঘটনার বিবরণ

১৯৭১ সালের ২৭ আগস্ট, শুক্রবার, কচুয়া থানা সদরে রাজাকারদের একটি থানাভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এই ক্যাম্পটি তৎকালীন সিও (সার্কেল অফিসার) অফিসের একটি ভবন দখল করে গঠন করা হয়েছিল। ক্যাম্পটির প্রথম মাসে রাজাকারদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৪১ জন, যা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বেড়ে ১৪১ জনে পৌঁছায়। এই রাজাকার বাহিনী তিন থেকে চার মাস ধরে কচুয়া থানা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার চালায় এবং তাদের ক্যাম্পের সামনে একটি বধ্যভূমি সৃষ্টি করে।

এই বধ্যভূমিতে রাজাকাররা বিভিন্ন সময়ে নিরীহ গ্রামবাসীদের ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা, যাদের নাম ও পরিচয় নিম্নরূপ:

  • টেংড়াখালী গ্রাম: হাশেম আলী শেখ, মো. হাবিব শেখ, সতীশ চন্দ্র মণ্ডল

  • জুসখোলা গ্রাম: ধলু সরদার

  • চরকাঠি গ্রাম: আজাহার আলী সরদার

  • বারইখালী গ্রাম: মনীন্দ্রনাথ সাহা

  • গুয়াতলা গ্রাম: বাবু খান

  • খলিশাখালী গ্রাম: অনিল চন্দ্র হালদার

  • হাজরাকালী গ্রাম: নুরুল হক শেখ

  • কাকারবিল গ্রাম: শফিউদ্দিন মৃধা এবং তাঁর ছেলে শাহজাহান মৃধা

এই ব্যক্তিদের রাজাকাররা ক্যাম্পের সামনে নিয়ে এসে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো কচুয়া এলাকার মানুষের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি করে এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী রাজাকারদের নৃশংসতার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

বধ্যভূমির তাৎপর্য

কচুয়া থানার এই বধ্যভূমি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতার একটি প্রতীক। এই বধ্যভূমিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা ছিলেন নিরীহ গ্রামবাসী, যাদের মধ্যে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। এই ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারদের ভূমিকা এবং তাদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের মাত্রা তুলে ধরে।

সূত্র:

  • মুক্তিযুদ্ধ কোষ (দ্বিতীয় খণ্ড), সম্পাদনা: মুনতাসীর মামুন লেখক: স্বরোচিষ সরকার

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিবর্তনমূলক আইনে মামলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: জাতীয় স্বার্থ সংকট ও প্রতিবাদের আওয়াজ

ডিজিটাল অরাজকতা বনাম কর্পোরেট শাসন / সোশ্যাল মিডিয়া কি ‘প্যারালাল সরকার’?

২৯ এপ্রিল ১৯৭১: গণহত্যার বিভীষিকা ও আন্তর্জাতিক জনমতের প্রবল চাপ

শেখ জামাল: এক অকুতোভয় বীর ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক উত্তরাধিকার

নতুন সরকারের আড়াই মাসে ১ হাজার ১৩০টি হত্যা-ধর্ষণ মামলা

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরে শুরু হলো ইউরেনিয়াম লোডিং

ফজলুর রহমানের মন্তব্যে তোলপাড় সংসদ / শহীদ পরিবারের কোনো সদস্যের জামায়াতের রাজনীতি করা অসম্ভব

২৮ এপ্রিল ১৯৭১: বিশ্ববিবেকের ডাক ও রণাঙ্গনে প্রতিরোধের নতুন মাত্রা

২৭ এপ্রিল ১৯৭১: বিশ্ববিবেকের জাগ্রত কণ্ঠ ও রণাঙ্গনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম

১০

পুলিশি বাধায় পিছু হটেননি সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা / নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি

১১

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলের ডাক মির্জা ফখরুলের

১২

মুক্তিযুদ্ধের দলিলচিত্রের রূপকার কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই

১৩

২৬ এপ্রিল ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা ও বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের এক ঐতিহাসিক দলিল

১৪

ইউনূসের ১৮ মাস / অর্থনীতির গভীর ক্ষত ও এক ‘ফোকলা’ উত্তরাধিকারের খতিয়ান

১৫

তপ্ত জনপদে অন্ধকারের শাসন

১৬

জয়পুরহাটের পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুর গণহত্যায় আজও আতঙ্কিত স্বজনহারা পরিবার

১৭

২৫ এপ্রিল ১৯৭১: পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমীকরণ

১৮

২৪ এপ্রিল ১৯৭১: সীমান্ত উত্তেজনা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রতিরোধ সংগ্রাম

১৯

২২ এপ্রিল ১৯৭১: মুক্তির বারুদ আর পৈশাচিকতার কালো ছায়া

২০