ঢাকা শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

হাসনাবাদ গণহত্যা (নবাবগঞ্জ, ঢাকা)

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:১২ পিএম
হাসনাবাদ গণহত্যা (নবাবগঞ্জ, ঢাকা)

১৯৭১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নবাবগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদে সংঘটিত গণহত্যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের হাতে ১২ জন নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হন। এই নৃশংস ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

ঘটনার বিবরণ

ঘটনার দিন পাকিস্তানি সৈন্যরা পার্শ্ববর্তী দোহার থানা হেডকোয়ার্টার্স থেকে মার্চ করে এসে নবাবগঞ্জের হাসনাবাদে পৌঁছে। তারা পথে দোহার থানার পশ্চিম-উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম ও জনপদ অতিক্রম করে। এ সময় তারা ইছামতি নদীবিধৌত ফারি ইক্রাশী ও কাঁচারীঘাট বাজারে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। স্থানীয় রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর সহায়তায় তারা ইক্রাশী ও কাঁচারীঘাটের হিন্দু ও খ্রিস্টান পল্লীতে হামলা করে। এরপর তারা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে নবাবগঞ্জ থানার হাসনাবাদের হিন্দু পালপাড়া ও খ্রিস্টান পল্লীতে আক্রমণ চালায়।

পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের সহযোগীদের সহায়তায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে গানপাউডার ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগ করে এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। এ সময় তারা বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতন করে। আক্রমণের এক পর্যায়ে তারা হাসনাবাদ গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ১২ জনকে কাঁচারীঘাটে নদীতীরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। এই নৃশংসতার পর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান।

শহীদদের পরিচয়

হাসনাবাদ গণহত্যায় শহীদ ১২ জনের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন:

  • ব্রজেন পাল (পিতা: বৃন্দাবন পাল, হাসনাবাদ)
  • গৌরাঙ্গ পাল (পিতা: কালিচরণ পাল, হাসনাবাদ)
  • ধীরেন পাল (পিতা: সাধু পাল, হাসনাবাদ)
  • শংকর পাল (পিতা: নরেশ পাল, হাসনাবাদ)
  • মাধব সূত্রধর (পিতা: যতীন্দ্র সূত্রধর, হাসনাবাদ)
  • দিলীপ সূত্রধর (পিতা: ত্রৈলক্ষ্য সূত্রধর, হাসনাবাদ)
  • মনোরঞ্জন পাল (হাসনাবাদ)
  • পুলহাত পাল (পিতা: সতীশ পাল, হাসনাবাদ)
  • সুদর্শন পাল (হাসনাবাদ)
  • গোবিন্দ সাহা (নতুন বান্দুরা)
  • অনীল গমেজ (পিতা: পিটার গমেজ, মোলাশীকান্দা)

এই গণহত্যার পর শহীদদের লাশ সমাহিত করার মতো কেউ আশেপাশে ছিল না। ফলে তাদের দেহগুলো নদীতে নিমজ্জিত থাকে এবং এক থেকে দুই দিন পর নদীর স্রোতে ভেসে যায়।

পরিণতি

হাসনাবাদ গণহত্যা মুক্তিযুদ্ধের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত নৃশংসতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ, ১০ম খণ্ড (মো. আনোয়ার হোসেন ও আব্দুল মালেক সিকদার)

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ সবার বিরুদ্ধেই দুদকে অভিযোগের স্তূপ

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ-পাহাড়: সংস্কার নাকি আইনি জটিলতার হাতছানি?

‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার হুঁশিয়ারি’

৮ ক্যাটাগরিতে ৯ বিশিষ্টজন পাচ্ছেন বাংলা একাডেমি পুরষ্কার

শহীদ বেদীতে জামায়াতের রাজনীতির ফুল

বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি: কৃষিখাতের জন্য একটি ‘ট্রোজান হর্স’

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন / ইরানে বড় আক্রমণের কথা ভাবছেন ট্রাম্প

বিদ্যুৎ খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে ইইউর কঠোর বার্তা

চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ডিসিসিআইয়ের

১০

রাজধানীতে সক্রিয় ১২৭ কিশোর গ্যাং, নিরাপত্তা সংকট

১১

২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১: রাজনৈতিক মাঠে উত্তাপ ও শঙ্কা, ছাত্রলীগের সমাবেশ

১২

একুশের চেতনা: বাঙালির আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম

১৩

দূর্গম পাহাড়ে একুশের গান / ম্রো শিশুদের কণ্ঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ (ভিডিও)

১৪

শহীদ মিনারে জামায়াত আমিরকে ঘিরে ‘রাজাকার’ ও ‘একাত্তরের দালাল’ স্লোগান (ভিডিও)

১৫

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি / ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গের গৌরবময় ইতিহাস

১৬

সবচেয়ে খারাপ রিক্রুটতো ছিলেন ইউনূস: খালেদ মুহিউদ্দীন (ভিডিও)

১৭

অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক খাতে পুঁজির প্রবাহ ও ব্যয় উভয়ই বাড়ছে

১৮

নারী স্বাধীনতা আর পিতৃতান্ত্রিক অন্ধকার

১৯

প্রকৃত পরীক্ষা আসলে খারাপ সময়েই হয়

২০