ঢাকা সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

ফুলদহেরপাড়া গণহত্যা (সরিষাবাড়ী, জামালপুর)

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:১৭ এএম
ফুলদহেরপাড়া গণহত্যা (সরিষাবাড়ী, জামালপুর)

ফুলদহেরপাড়া গণহত্যা ১৯৭১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সংঘটিত হয়। জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার বারইপটল ইউনিয়নের ফুলদহেরপাড়া গ্রামে এই গণহত্যা ঘটে, যা জামালপুর জেলার অন্যতম নৃশংস ঘটনা হিসেবে পরিচিত। এতে বহু সাধারণ মানুষ নিহত হন এবং নিহতদের গ্রামেই গণকবর দেওয়া হয়।

পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

ফুলদহেরপাড়া গ্রামের মানুষেরা কাদেরিয়া বাহিনীর হুমায়ুন কোম্পানির শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও কাদেরিয়া বাহিনীর সদস্যরা একযোগে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট ও পিংনায় অবস্থিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং রাজাকার-আলবদরদের ক্যাম্প আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু আলবদর নেতা রুস্তুম আলী ও আয়ুব আলীর কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণের শিকার হন।

আলবদর নেতা রুস্তুম আলী ও আয়ুব আলী মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান ও পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে পাকহানাদার বাহিনীকে অবহিত করেন। ফলে মুক্তিযোদ্ধারা পুরোপুরি প্রস্তুতি গ্রহণের আগেই পাকবাহিনী ও রাজাকার-আলবদররা তিন দিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলে এবং অতর্কিত গোলাবর্ষণ শুরু করে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ওরফে ইতিম আলীকে কভারিং ফায়ারের দায়িত্বে রেখে পুরো কোম্পানিকে উইথড্র করা হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলামের গুলি ফুরিয়ে যায় এবং তিনি যুদ্ধে শহীদ হন। পরে পাকহানাদার বাহিনী ও রাজাকার-আলবদররা গ্রামে হামলা চালিয়ে বহু বেসামরিক মানুষকে হত্যা করে এবং গ্রামের সমস্ত সম্পদ লুট করে। নিহতদের গ্রামে গণকবর দেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ে স্থানীয় জনগণ এই স্থানটিকে শহীদনগর নাম দেন। প্রতিবছর ২৫ সেপ্টেম্বর শহীদনগর দিবস পালন করা হয়।

সূত্র

বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ, ৬ষ্ঠ খণ্ড [এ এইচ এম মাছুদুর রহমান]

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১২ এপ্রিল ১৯৭১: সরকারের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব ও বালারখাইলের রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি

রক্ষাকালী মন্দির গণহত্যা: পাবনার এক রক্তাক্ত অধ্যায়

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম ভাষণ

১১ এপ্রিল ১৯৭১: তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ ও সংগঠিত প্রতিরোধের সূচনা

১০ এপ্রিল ১৯৭১: বাংলাদেশের প্রথম সরকার ও স্বাধীনতার সনদ

১০ এপ্রিল ১৯৭১: যখন যুদ্ধের অন্ধকারে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আইনি সূর্য

০৫ এপ্রিল ১৯৭১: বহুমুখী যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

১০

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

১১

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

১২

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

১৩

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

১৪

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

১৫

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

১৬

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

১৭

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১৮

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১৯

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

২০