ঢাকা সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
মুজতাবার প্রথম বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের আলটিমেটাম, হরমুজ বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
১২ মার্চ ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
১২ মার্চ ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনি তার প্রথম সরকারি বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত রবিবার ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) তাকে দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার পর ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় জনসমক্ষে তার দেখা না মেলায় নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি এই বার্তা দেন।

মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের আলটিমেটাম

বিবৃতিতে মুজতাবা খামেনি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করার আলটিমেটাম দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত সুরক্ষা ব্যবস্থা আসলে মিথ্যা কথা ছাড়া আর কিছুই নয়। মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় সেগুলোর ওপর হামলা চলবে।”

একই সঙ্গে তিনি উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি তাদের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ‘বন্ধুত্বের’ নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিষয়ে মুজতাবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শত্রুদের ওপর চাপ বজায় রাখতে এই জলপথ বন্ধই থাকবে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই ঘোষণা নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মিনাব শহরের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার

মুজতাবা তার বিবৃতিতে সম্প্রতি ইরানের মিনাব শহরের মেয়েদের স্কুলে ইসরায়েলের হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কঠোর প্রতিশোধের বার্তা দেন। ওই হামলায় ১৬৮ জন নিহত হয়েছিল, যাদের মধ্যে প্রায় ১১০ জনই শিশু। তিনি বলেন, "আমি শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার অঙ্গীকার করছি। ইরানিদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে আমরা দ্বিধা করব না।"

ক্ষতিপূরণের দাবি ও হুঁশিয়ারি

বিবৃতিতে যারা ক্ষতির শিকার হয়েছে তাদের জন্য শত্রুদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। মুজতাবা খামেনি বলেন, এই ক্ষতিপূরণ না পেলে শত্রুদের সম্পদ একইভাবে ধ্বংস করার হুমকি দেন তিনি।

যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

ইরানের সামরিক বাহিনী ও যোদ্ধাদের উদ্দেশে মুজতাবা বলেন, “আমি সাহসী যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা এমন একটি সময়ে মহান দায়িত্ব পালন করছে যখন আমাদের দেশ চাপ এবং হামলার মুখে আছে।”

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তার মৃত্যুর ৯ দিন পর ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তার ছেলে মুজতাবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। ১৯৮৯ সালে ইমাম খোমেনির মৃত্যুর পর আলি খামেনি ইরানের নেতৃত্বে আসেন এবং প্রায় ৩৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পুলিশি বাধায় পিছু হটেননি সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা / নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলের ডাক মির্জা ফখরুলের

মুক্তিযুদ্ধের দলিলচিত্রের রূপকার কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই

২৬ এপ্রিল ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা ও বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের এক ঐতিহাসিক দলিল

ইউনূসের ১৮ মাস / অর্থনীতির গভীর ক্ষত ও এক ‘ফোকলা’ উত্তরাধিকারের খতিয়ান

তপ্ত জনপদে অন্ধকারের শাসন

জয়পুরহাটের পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুর গণহত্যায় আজও আতঙ্কিত স্বজনহারা পরিবার

২৫ এপ্রিল ১৯৭১: পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমীকরণ

২৪ এপ্রিল ১৯৭১: সীমান্ত উত্তেজনা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রতিরোধ সংগ্রাম

২২ এপ্রিল ১৯৭১: মুক্তির বারুদ আর পৈশাচিকতার কালো ছায়া

১০

২১ এপ্রিল ১৯৭১: শ্রীঅঙ্গনে নারকীয় গণহত্যা ও ভাসানীর কূটনৈতিক উদ্যোগ

১১

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা

১২

কাঁচামাল সংকট: বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা

১৩

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ: রণাঙ্গনের অকুতোভয় মহানায়ক

১৪

২০ এপ্রিল ১৯৭১: বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের আত্মত্যাগ ও কূটনৈতিক পরিবর্তনের দিন

১৫

নীতি-ভুলের খেসারত / মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০ লাখ শিশু, ফিরছে নির্মূল হওয়া রোগ

১৬

১৯ এপ্রিল ১৯৭১: প্রবাসী সরকারের শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনা ও রণক্ষেত্রে রক্তের দাগ

১৭

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

১৮

১৭ এপ্রিল ১৯৭১: স্বাধীন বাংলাদেশের সূর্যোদয় ও মুজিবনগর সরকার

১৯

মুজিবনগর দিবস: এক অমর ইতিহাসের মহাকাব্য

২০