ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

হাঁড়ি জ্বলছে না বাসায়, ঢাকা জুড়ে চরম গ্যাস সংকট

সামিহা সামান্থা
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
হাঁড়ি জ্বলছে না বাসায়, ঢাকা জুড়ে চরম গ্যাস সংকট

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটিতে আরএলএনজি সরবরাহ প্রতিদিন ৫৫০ এমএমসিএফডি কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকায় তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব গ্যাস সংকট। কলাবাগান থেকে আদাবর—রান্নাঘরে চুলা না জ্বলায় বাসাবাড়িতে তীব্র পানীয় জল ও খাবারের হাহাকার তৈরি হয়েছে; কেনা রুটি-কলা ও ভেজাল খাবারের ওপর ভরসা করতে গিয়ে নগরবাসী স্বাস্থ্য ও চরম আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছেন। পাম্পগুলোতে সিএনজির সংকটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে চালকেরা আয় হারাচ্ছেন, যা গণপরিবহনে এনেছে স্থবিরতা। অন্যদিকে ডাইং ও সেলাই সেকশন বন্ধ হয়ে পরায় তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত বিমান ভাড়ার বাড়তি ব্যয় ও মূল্যছাড়ের ধাক্কায় আগস্টে কর্মীদের বেতন পরিশোধ না করতে পেরে দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি (LNG) টার্মিনালে আকস্মিক কারিগরি বিপর্যয় ঘটার ফলে জাতীয় গ্রিডে পুনরায় রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (RLNG) সরবরাহ প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (MMCGFD) কমে গেছে। এর প্রভাবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের আওতাধীন ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহে তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে জানিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। তবে এই প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি ঘাটতি এখন আর শুধুই পাইপলাইনের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ঢাকার লাখ লাখ নগরবাসীর রান্নাঘরকে অচল করে দিয়েছে, গণপরিবহনকে নামিয়ে এনেছে রাজপথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ সারিতে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে ঠেলে দিয়েছে এক অমানবিক ও অনিবার্য আর্থিক দেউলিয়াত্বের দিকে।

বাসাবাড়িতে হাহাকার: চুলা না জ্বলায় কেনা খাবারে ভরসা ও নাগরিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় টানা ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। সকালে গ্যাস গিয়ে দুপুরে আসা বা রাতে কিছুটা পাওয়া যাওয়ার যে প্রথা এতদিন ছিল, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কলাবাগান, আদাবর, মিরপুর ও ধানমন্ডি এলাকা ঘুরে পাওয়া গেছে চরম নাগরিক দুর্ভোগের হৃদয়বিদারক চিত্র।

কলাবাগানের এক স্থানীয় ভুক্তভোগী ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে তাদের বাসায় রান্নাবান্না পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। চুলা না জ্বলায় বাধ্য হয়ে পরিজনদের নিয়ে দোকানের রুটি ও কলা খেয়ে কোনোমতে দিন কাটাতে হচ্ছে।

আদাবরের বাসিন্দা তানজিনা রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আগে হয়তো সকাল ৭টা বা ৮টায় গ্যাস চলে যেত, কিন্তু দুপুর ২টার মধ্যে ফের ফিরে আসত; তখন অন্তত এক বেলার রান্নার কাজ সেরে রাখা যেত। তবে গত দশ দিন ধরে গ্যাস সংকটের কোনো টাইমটেবিল নেই। বলতে গেলে চব্বিশ ঘণ্টাই বাসায় গ্যাস থাকছে না।”

রান্না বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে খাবার পানি ফোটানো নিয়ে। গ্যাসের অভাবে নগরবাসী পানি ফুটিয়ে খেতে পারছেন না, যার ফলে বিশুদ্ধ সুপেয় পানির মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে এবং বাধ্য হয়ে অনেকে অনিরাপদ পানি পানে পেটের পীড়ায় ভুগছেন।

এই চরম বাস্তবতায় বিকল্প উপায়ের দিকে ছুটতে গিয়ে নগরবাসীর ওপর চাপছে অতিরিক্ত খরচের বোঝা। বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানান আরেক ভুক্তভোগী তাসনুভা মুমু। তাসনুভা মুমু বলেন, “ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করার জন্য একদম আলাদা ধরনের বাসনকোসন কেনা লাগছে, যার জন্য আমাদের বিশাল অঙ্কের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। আর এর সাথে মাসশেষে বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত চাপ তো রয়েছেই।”

অনেকে ইলেকট্রিক চুলার বদলে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা দর দিয়ে কাঠ ও মাটির চুলা কিনে ছাদ বা বারান্দায় রান্নার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যারা ফ্ল্যাটবাড়িতে থাকেন, তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে কেনা খাবার। আদাবরের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গত দুই দিন ধরে তার বাসায় রান্নাবান্না একপ্রকার বন্ধ। আজ সকালে তিনি অনেক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দোকান থেকে ৪টি পরোটা কিনে এনেছিলেন, কিন্তু ঘরে ফিরে দেখেন সেগুলোও ভেতরে কাঁচা! তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন তিনবেলা এভাবে বাইরের কেনা খাবার খাওয়া শরীরের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি মাসশেষে সবার ঘরে ঘরে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস বা আর্থিক সংকট দেখা দিচ্ছে।”

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা, যারা বিকল্প চুলা কেনা বা প্রতিদিন কেনা খাবার খাওয়ার সামর্থ্য রাখেন না। ঢাকার সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষ প্রশাসনিক উদাসীনতা ও গ্যাস সংকটে চরম ক্ষোভে এখন পুরোপুরি বোবা হয়ে গেছেন।

পাম্পে অটোরিকশার মাইলে পর মাইল দীর্ঘ সারি: আয় বন্ধে রাজপথে সিএনজি সংকট

আবাসিক দূরবস্থার সেই উত্তাপ এসে আছড়ে পড়েছে ঢাকার রাজপথের গণপরিবহন ব্যবস্থায়। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র সিএনজি সংকট।

রাজধানীর তেজগাঁও, মগবাজার ও কল্যাণপুরের সিএনজি পাম্পগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। অটোরিকশা চালকেরা জানান, পাম্পে সঠিক সময়ে সিলিন্ডার রিফিল করতে না পেরে তাদের দৈনিক কর্মঘণ্টার প্রায় পুরোটাই পার হয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থেকে।

একজন চালক আক্ষেপ করে বলেন, “যে সময়ে সড়কে যাত্রী নামিয়ে আয় করার কথা, সেই সময় চলে যাচ্ছে সিএনজি পাম্পের সিরিয়ালে। গ্যাস না পাওয়ায় সারাদিন গাড়ি চালানো যাচ্ছে না, আবার দিনশেষে গাড়ির মালিককে জমার টাকা দেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”

এর ফলে একদিকে চালকদের দৈনিক আয় মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে তাদের পরিবারে অনাহার দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে সড়কে সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। চালকেরা গ্যাস পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষার দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন, যা স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবীদের যাতায়াত খরচকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পোশাক খাত: বিকেএমইএ সভাপতির উদ্বেগ ও তিতাস কর্তৃপক্ষের অবস্থান

বাসাবাড়ি ও গণপরিবহনের সীমা পেরিয়ে এই সংকটের সবচেয়ে বিষাক্ত ছোবল গিয়ে পড়েছে দেশের মূল অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি পোশাক (RMG) ও টেক্সটাইল খাতে। দেশের শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ (BKMEA)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিল্প খাতের বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতির রোমহর্ষক ও তথ্যভিত্তিক বিবরণ তুলে ধরেছেন।

মোহাম্মদ হাতেম টিবিএস-কে জানান, গত ১২-১৩ দিন ধরে শিল্পাঞ্চলগুলোতে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম দুটি প্রধান জায়গায় সরাসরি ব্যাহত হচ্ছে:

১. ফ্যাব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডাইং ইউনিট: টেক্সটাইল ডাইং কারখানাগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রেসারের গ্যাস না থাকায় বয়লার বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে প্রাথমিক কাঁচামাল বা কাপড়ের ডাইং ও ফ্যাব্রিক উৎপাদন একেবারেই বন্ধ রাখা হয়েছে।

২. সিউইং ও পোশাক প্রস্তুত সেকেশন: বড় ও মাঝারি কারখানাগুলোর সিউইং (সেলাই) সেকশনে ডাইং করা কাপড় না পৌঁছানোয় মেশিন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে, ফলে পুরো প্রোডাক্ট মেকিং বা পোশাক তৈরির প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে গেছে।

বাণিজ্যের ক্ষতি ও এয়ার শিপমেন্টের মরণফাঁদ

উৎপাদন ও ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটার ফল কতটা মারাত্মক তা ব্যাখ্যা করে মোহাম্মদ হাতেম জানান, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের (Buyers) সাথে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারলে কারখানাগুলোকে চরম মাশুল গুনতে হবে।

মোহাম্মদ হাতেম স্পষ্টভাবে বলেন, “সময়মত শিপমেন্ট না করতে পারলে বিদেশি ক্রেতারা আমাদের বিমানে পণ্য (Air Shipment) পাঠানোর জন্য চাপ দেবে। আর বিমানে পণ্য পাঠাতে গেলে আমাদের পুরো রপ্তানি মূল্যের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ খরচ শুধু এয়ার শিপমেন্ট বাবদ খরচ হবে! আর আমরা যদি এয়ার শিপমেন্ট না দিই, তবে ক্রেতারা পণ্যের মূল্যের ওপর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ছাড় (Discount) কেটে নেবে। অর্থাৎ, দুই ক্ষেত্রেই আমাদের বিশাল অঙ্কের লোকসান গুনে দেউলিয়া হতে হবে।”

এই চলমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে এর মানবিক পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিকেএমইএ প্রধান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “যদি এই গ্যাস সংকট আগামী ২০ থেকে ২৫ দিন এভাবে চলতে থাকে, তবে কারখানার মাসিক লোকসান সামলে উঠতে না পেরে আগস্ট মাসে আমরা আমাদের হাজার হাজার পোশাক শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করতে পারব না। একই সাথে ব্যাংকের মাসিক কিস্তি কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আমরা দিশেহারা।”

সিএনজি পাম্প বনাম তিতাস গ্যাস: ব্যবসায়ী নেতাদের আকুল আবেদন

সংকটকালে স্বল্প পরিসরে ফিনিশিং সেকশন চালু রাখার লড়াইয়ে নামা ব্যবসায়ীরা তিতাস গ্যাসের প্রশাসনিক নীতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মোহাম্মদ হাতেম টিবিএস-কে জানান, তীব্র সংকটকালে তারা বিকল্প হিসেবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সংগ্রহ করে কারখানা সচল রাখার চেষ্টা করেন।

কিন্তু তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ব্যবসায়ীদের এই উদ্যোগে সমহমর্মিতা প্রকাশ করা বা দুঃখ প্রকাশ করা তো দূরের কথা, উল্টো তারা সিএনজি পাম্পগুলোতে চিঠি দিয়ে নির্দেশ দেয় যেন সিলিন্ডারে করে কোনো গ্যাস সরবরাহ না করা হয়!

এই চিঠির পর তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা বলেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

কথোপকথনে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জ্বালানি মন্ত্রী বিপণন আইনের দোহাই দিয়ে মোহাম্মদ হাতেমকে জানান, দেশে বিদ্যমান বিপণন আইন অনুযায়ী এক উদ্দেশ্যে বরাদ্দকৃত গ্যাস অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় না, তাই সিএনজি পাম্পের গ্যাস সিলিন্ডারে করে শিল্পে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা রয়েছে।

এই আইনি ব্যবধানের জবাবে মোহাম্মদ হাতেম তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জ্বালানি মন্ত্রীকে বিনীত অনুরোধ করে বলেন, "এই মহা সংকটকালে শিল্প ও ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এবং টিকে থাকার জন্য সাময়িকভাবে আমরা যে বিকল্প উপায়ে গ্যাস নিচ্ছি, দয়া করে আপনারা এই প্রক্রিয়াকে আইনি দোহাই দিয়ে বাধাগ্রস্ত করবেন না।" বিকেএমইএ সভাপতির এই আকুল আবেদনের পর তিতাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মন্ত্রী মহোদয় তাকে আশ্বস্ত করে জানান যে, তারা সিলিন্ডারে গ্যাস নেওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত কোনো বাধা সৃষ্টি করবেন না।

শিল্প খাতকে ধ্বংসে হাত থেকে বাঁচাতে দেশের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “আমি দেশের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মহোদয় এবং অর্থমন্ত্রী মহোদয়কে বিনীত অনুরোধ করব, তারা যেন অন্তত এই জরুরি সময়ে শিল্পমালিকদের পরিস্থিতি নিয়ে ভাবেন। আমরা কীভাবে ব্যাংক ঋণ ও বেতনের এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি, সে ব্যাপারে তারা যেন জরুরি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।”

একই উদ্দেশ্যে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সমিতি (BGME)-এর পক্ষ থেকেও সরকার ও তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছে সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের আইনি অনুমোদন চাওয়ার আবেদন করা হয়েছে, যাতে তারা অন্তত আংশিকভাবে কারখানার চাকা ঘুরিয়ে রাখতে পারেন।

সংকট নিরসন ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

মহেশখালী থেকে আরএলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা ও আশেপাশের শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের প্রদেয় চাপ স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকার জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য ১৬,০৮৯ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিলেও গ্যাস গ্রিডের সরবরাহ সংকট কাটাতে তাৎক্ষণিক কোনো জাদু নেই।

গৃহিণীর রান্নাঘরের দুর্ভোগ থেকে শুরু করে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের শত কোটি টাকার ক্ষতি—সব মিলিয়ে তিতাসের এলএনজি বিপর্যয় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রতিটি স্তম্ভকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। শিল্পমালিক, সাধারণ নাগরিক ও পরিবহন খাত এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও তিতাসের ইতিবাচক পদক্ষেপের দিকে।

তথ্যসূত্র

  • দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS News - ২৬ জুলাই ২০২৬): "গ্যাসের অভাবে বিপর্যস্ত শিল্প কারখানা, ঝুঁকিতে রপ্তানি আদেশ"
  • দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS News - ২৫ জুলাই ২০২৬): "গ্যাস সংকটে অটোরিকশা চালকদের দীর্ঘ সারি, আয় কমে মানবেতর জীবন"
  • TBS News (২৪ জুলাই ২০২৬): "Govt approves Tk 16,089cr refined fuel import for July-December"
  • দৈনিক যুগান্তর (৩০ জুলাই ২০২৬): "রাজধানীতে তিতাসের তীব্র গ্যাস সংকট ও দুর্ভোগ"
  • TBS News Bangla (৩০ জুলাই ২০২৬): "তিতাস এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটের পুনরায় সতর্কতা ও এলএনজি সরবরাহ হ্রাস"
অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাঁড়ি জ্বলছে না বাসায়, ঢাকা জুড়ে চরম গ্যাস সংকট

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, উত্তপ্ত চট্টগ্রাম-ফেনী / হবিগঞ্জে বাধার পর সিলেটেও এনসিপির গাড়িবহরে হামলা

আবু সাঈদ হত্যা / এক মৃত্যুর হাজারো প্রশ্ন

‘ভারতীয় এজেন্ট’ আতঙ্ক ও শহীদ গেজেট বিতর্ক

কওমি মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ: এক অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র

গ্রিন ইয়ার্ডের আড়ালে রক্তের দাগ / জাহাজভাঙায় শতকোটির বিনিয়োগেও থামছে না মৃত্যু

অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয় শেষ হলো ‘বর্ষামঙ্গল উৎসব ১৪৩৩’

তীব্র গ্যাসসংকটে ধুঁকছে শিল্পখাত, উৎপাদনে স্থবিরতায় চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণকবরের দাবি একটি ‘কল্পকাহিনী’

‘টেসলা’ সমাচার: বৃষ্টি এলেই ভাড়া দ্বিগুণ, রাস্তায় নামলেই ঝুঁকি

১০

‘জুলাই শহীদ’ গেজেটের অর্ধেক মৃত্যুই ৫ আগস্ট-এর পর

১১

কীভাবে বাখের আলী বাংলাদেশের ‘গেজেটভুক্ত’ জুলাই শহীদ তালিকায় ‘কবির’ হয়ে গেলেন

১২

আঁধারেই ডুবে আছে রাজধানী / বাতিহীন রাস্তায় বাড়ছে ছিনতাই, দুর্ঘটনা আর নিরাপত্তাহীনতার ভয়

১৩

নগরায়ণের চাপ, পাল্টে যাচ্ছে খাদ্যাভ্যাস

১৪

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর / শোক, স্মৃতি আর বিচার পাওয়ার আকুতিতে কাটল বিষাদময় দিন

১৫

স্পেনের বিশ্বজয়, মেসির বিষাদ / ১৬ বছর পর আবার বিশ্বসেরা লা রোখারা

১৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন / পরিস্থিতি খারাপ হলে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ ইসির

১৭

দুদকে ফাইলবন্দি ৮ হাজার অভিযোগ, পদের জন্য ৩২৭ আবেদন

১৮

শেখ হাসিনা ও আজিজসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

১৯

ভাঙছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, অন্ধকারে প্রশাসন ও সওজ!

২০