

“জামিন পেলেই আমাকে একের পর এক মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। বারবার এভাবে মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন”—ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের উদ্দেশ্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই আকুতি জানান মডেল সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুবাস।
জুলাই আন্দোলনের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিনের পর ফের গ্রেফতার দেখানোর শুনানিতে অংশ নিতে এসে রোববার দুপুরে আদালতের হাজতখানার সামনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যান তিনি।
আদালতে অসুস্থতা ও শুনানির চিত্র
প্রত্যক্ষদর্শী ও আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী জানান, গত ২৬ মার্চ সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন মিষ্টি সুবাস। পরবর্তীতে তিনি চারটি মামলায় জামিন পান এবং কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। তবে গত ৯ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে শুনানির জন্য হাজতখানা থেকে কাঠগড়ায় নেওয়ার পথে মিষ্টি সুবাস মাথা ঘুরে পড়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে তুলে হাজতখানায় নিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থ বোধ করলে তাকে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে হাজির করা হয়।
বিচারকের কাছে আকুতি
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলার অনুমতি চেয়ে মিষ্টি সুবাস বলেন, “আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়েছিলাম। এটা কোনো অপরাধ হতে পারে না। আমাকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত হচ্ছে।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী গ্রেফতার দেখানোর আবেদন বাতিলের আরজি জানালেও, উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে আশুলিয়া থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়া বাইপাইল মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে গুলিতে গুরুতর আহত হন কিশোর আবির। ওই ঘটনায় ৩১ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় মিষ্টি সুবাসকে জড়িত হিসেবে আসামি করা হয়।
মন্তব্য করুন