

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলা ও নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধস (Glacial Collapse) ও ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় (Flash Flood) নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকের লাশ আটকে থাকার আশঙ্কায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) ও গবেষকদের তথ্যমতে, কোনো ভূমিকম্প নয়, বরং হিমালয় অঞ্চলের উচ্চতায় ভয়াবহ হিমবাহ ও শিলা ধসের কারণে ভুতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় বিপুল পরিমাণ কাদা, জল ও ধ্বংসাবশেষ নদীর গতিপথ রুদ্ধ করে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
নিখোঁজ দেড় হাজার, তালিকায় ২৮ দেশের ৪৭৬ বিদেশি
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া সর্বশেষ আপডেটে নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারের আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৭০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ১,৫০০ মানুষ।
নেপাল কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী (২৭ আগস্ট সকাল ১০টা পর্যন্ত হালনাগাদ), নিখোঁজদের মধ্যে ২৮টি দেশের ৪৭৬ জন চিহ্নিত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি নিখোঁজ ভারতের নাগরিক (১৭৭ জন)। নিখোঁজের তালিকায় থাকা প্রধান দেশসমূহ:
ভারত: ১৭৭ জন
যুক্তরাষ্ট্র: ৬৩ জন
ইউক্রেন: ৫৩ জন
অস্ট্রেলিয়া: ৩৪ জন
যুক্তরাজ্য: ৩৩ জন
মালয়েশিয়া: ২৮ জন
কানাডা: ২৫ জন
জার্মানি: ৮ জন
সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ আফ্রিকা: ৬ জন করে
জাপান, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া ও লাটভিয়া: ৫ জন করে
এছাড়া চীন জানিয়েছে, সীমান্ত সংলগ্ন তিব্বতের গিরং (Gyirong) কাউন্টিতে নিখোঁজ প্রায় ১০০ জন চিনা নাগরিকের জন্য উদ্ধারকাজে গতি আনা হয়েছে এবং তারা নেপালের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করছে।
তছনছ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাধাগ্রস্ত উদ্ধার অভিযান
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস ফেডারেশনের (IFRC) প্রতিনিধিদলের প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, বন্যা ও ভূমিধসের ফলে পার্বত্য রসুয়া ও নোয়াকোট এলাকার অধিকাংশ সড়ক ও সেতু ধসে পড়েছে। এর ফলে দুর্গম পার্বত্য এলাকাগুলোতে বর্তমানে কেবল মাত্র হেলিকপ্টার ছাড়া পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
অনেক গ্রাম ও স্থানীয় বাজার এলাকা কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে পুরো তলিয়ে গেছে। অসংখ্য মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন এবং দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও জরুরি চিকিৎসার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নেপাল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন