

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িয়দের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিচার চেয়ে রাজপথে নেমেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) বিকালের দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’ ও ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে এই মানববন্ধন, প্রতিবাদ লিখন ও মৌন অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ চলাকালে একটি রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়, যার পরবর্তীতে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বক্তব্যে ক্ষোভ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বাগবিতণ্ডা
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী। তিনি বলেন, “গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পুরো পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছবিতে দৃশ্যমান নিষ্পাপ মুখগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে। দেশে একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে, যার ফলে আজ নিজ ঘরেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই।”
বক্তব্যের একদম শেষ পর্যায়ে কামাল পাশা চৌধুরী ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিলে উপস্থিত ৩ জন ব্যক্তি তার প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদকারীদের একজন বলেন, সামাজিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এই স্লোগান কেন দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আয়োজক ও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব জানান, বাগবিতণ্ডার পর পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে পড়লে অংশগ্রহণকারীরা স্থান ত্যাগ করতে শুরু করেন।
পুলিশের ব্যানার জব্দ ও মামলার প্রক্রিয়া
ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, সামাজিক কর্মসূচির ব্যানারে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদের একপর্যায়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হলে পুলিশ সেখানে যায়। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি ঘিরে আগতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
নাগরিক সমাজের ক্ষোভ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও সাংবাদিক সাকিল আহমদ (অরণ্য) ‘প্রিয়ভূমি’কে বলেন, “বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন, শিক্ষক হয়রানি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হলেও সরকার, প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।”
একই সঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক কানিজ আকলিমা বলেন, “গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।”
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থা
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তার হওয়া দুই তরুণের স্বীকারোক্তির কথা জানালেও স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করছে, এত বড় হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে। ব্যাপক ক্ষোভের মুখে মামলাটির তদন্তভার সম্প্রতি গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন