

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিচার চেয়ে রাজপথে নেমেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকাল ৫টায় রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন, প্রতিবাদ লিখন ও মৌন অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করতে আসা সকলের পক্ষে বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী। তিনি বলেন, “দেশে একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু তথা হিন্দুরা তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রান্ত হলেও আজ কোনো সাধারণ মানুষেরই নিরাপত্তা নেই। মানবিক মর্যাদা বিপন্ন, এমনকি নিজ ঘরেও মানুষ আজ অনিরাপদ।”
সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক, অ্যাক্টিভিস্ট কানিজ আকলিমা ‘প্রিয়ভূমি’কে বলেন, “গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পুরো পরিবারের হত্যাকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন। পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
মানববন্ধনে উপস্থিত গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক ও সাংবাদিক সাকিল আহমদ (অরণ্য) ‘প্রিয়ভূমি’কে বলেন, “বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন, পরিবার নিধন, নারী-শিশু ধর্ষণ ও শিক্ষকদের ওপর হয়রানির ঘটনা ঘটেই চলেছে। পুলিশ ও প্রশাসন প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এরপরও সুশীল সমাজের নীরবতা হতাশাজনক। এই অসহনীয় বর্বরতা থামাতে সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর পড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত ২০ আগস্ট রাতেই তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রংপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ২৩ আগস্ট ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে, যারা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
তবে নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর পরিবার ও স্থানীয়দের মতে, মাত্র দুজন তরুণের পক্ষে একই সাথে চারজন মানুষকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা অসম্ভব এবং এর নেপথ্যে মূল পরিকল্পনাকারী বা কোনো প্রভাবশালী চক্রকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে। জনদাবি ও ক্ষোভের মুখে পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে সরিয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
মন্তব্য করুন