

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থকদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের এনআইডি কার্ডের কপি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সে সঙ্গে তিনি বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে প্রচারণা চালানো নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের এনআইডি কার্ডের কপি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। এই বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছিলাম এবং বিষয়টি আমলে নেয়ায় আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তবে একই সঙ্গে আমরা আশঙ্কা করছি যে, এরইমধ্যে সংগৃহীত এসব ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া বা জাল ভোট প্রদান, প্রতারণামূলক ভোট, মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট প্রদান এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভোটারদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৪, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৭ ও ৪২০ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর ধারা ২ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।'
তিনি আরো বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এবং তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের কিছু পোস্ট ও ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে, যেখানে বলা হচ্ছে—তাদের প্রতীককে জয় লাভ করানো মানে নিজের ঈমানকে জয় লাভ করানো এবং জান ও মাল দিয়ে সেই প্রতীককে জয় লাভ করানো ঈমানি দায়িত্ব। বলা হচ্ছে যে, কবরে গিয়ে বলা যাবে দ্বীন কায়েমের জন্য ওই প্রতীকে ভোট দেয়া হয়েছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার এই অপপ্রয়াস অনাকাঙ্ক্ষিত।
এটি দৃশ্যমান যে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে ব্যবহার করে দেশের ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইন অনুযায়ী ‘অসৎ প্রভাব বিস্তার’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হয়। তাই আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।'
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, 'শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিএনপির ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করেছে। সেইসঙ্গে ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আগামী দিনে সেটি আরো বাড়াতে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।‘
আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিজ থানার বাইরে দায়িত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভলান্টিয়ার ক্যাটাগরির ১৩ থেকে ১৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে, যাদের একটি বড় অংশ সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদেরকে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগ করা নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে বলে আমরা মনে করি। তাই আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদেরকে নিজ থানার বাইরে নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।‘
মন্তব্য করুন