ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

পবিপ্রবির ‘মুক্ত বাংলা’: উপকূলীয় জনপদে স্বাধীনতার অবিনাশী প্রতীক

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
পবিপ্রবির মুক্ত বাংলা

পটুয়াখালী জেলা তথা সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে যে কয়েকটি ভাস্কর্য আমাদের গর্বিত করে, তার মধ্যে অন্যতম পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মুক্ত বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান চত্বরে সদর্পে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভাস্কর্যটি কেবল একটি শৈল্পিক সৃষ্টি নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় বীরত্ব আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য।

নির্মাণের প্রেক্ষাপট নেপথ্য কথা

পটুয়াখালী জেলায় মুক্তিযুদ্ধের কোনো উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রীয় স্মারক স্থাপনা না থাকায় ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি স্থায়ী ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের লাখ এবং জনতা ব্যাংকের লাখ টাকা অর্থায়নে মোট লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়। প্রখ্যাত ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান-এর সুনিপুণ নকশায় নির্মিত এই ভাস্কর্যটি ২০১১ সালের ৩০শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। শুরুতে এর নাম রাখা হয়েছিল জয় বাংলা তবে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ এক বিশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মুক্ত বাংলা

স্থাপত্যশৈলী নান্দনিকতা

মুক্ত বাংলা ভাস্কর্যটি এর উপাদান এবং গঠনের দিক থেকে আধুনিক দীর্ঘস্থায়ী। এটি মূলত মরিচাবিহীন ইস্পাত (Stainless Steel) দিয়ে তৈরি একটি প্রতীকী মুক্তিযোদ্ধার মূর্তি। এর নির্মাণশৈলীতে রয়েছে গভীর প্রতীকী তাৎপর্য:

আকৃতি উচ্চতা: ভাস্কর্যটির উচ্চতা ২২ ফুট। এর পাদদেশ দুই ধাপের বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। প্রথম ধাপটি ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এবং দ্বিতীয় ধাপটি ২২ ফুট দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট প্রস্থের।

উপাদান: এর পাদদেশ বা বেদি আচ্ছাদনে ব্যবহার করা হয়েছে কালো গ্রানাইট পাথর, যা আভিজাত্য গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলে। এর চারপাশের বেষ্টনীতে ব্যবহার করা হয়েছে লাল সিরামিক ইট।

বিপ্লবী অবয়ব: ভাস্কর্যের মূল আকর্ষণ হলো একজন প্রতীকী মুক্তিযোদ্ধার বিপ্লবী মূর্তি। তাঁর কাঁধে পিঠে ঝুলন্ত রাইফেল, মাথায় গামছা দিয়ে পেঁচানো উন্নত শিরযা বাঙালির অপরাজেয় মানসিকতার প্রতীক। দুই হাতে তিনি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত মানচিত্রখচিত সেই জাতীয় পতাকা।

গুরুত্ব তাৎপর্য

মুক্ত বাংলা আজ কেবল পবিপ্রবি ক্যাম্পাসের কোনো স্থাপনা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের পর্যটন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যখন সড়ক দিয়ে হেঁটে যায়, এই উজ্জ্বল ইস্পাতের মুক্তিযোদ্ধার দিকে তাকালে অবলীলায় তাদের মনে পড়ে যায় একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। মরিচাবিহীন ইস্পাত যেমন কখনো ক্ষয় হয় না, আমাদের মুক্তি সংগ্রামের চেতনাও যে অক্ষয়ভাস্কর্যটি যেন নীরবে সেই বার্তাই দিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিবর্তনমূলক আইনে মামলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: জাতীয় স্বার্থ সংকট ও প্রতিবাদের আওয়াজ

ডিজিটাল অরাজকতা বনাম কর্পোরেট শাসন / সোশ্যাল মিডিয়া কি ‘প্যারালাল সরকার’?

২৯ এপ্রিল ১৯৭১: গণহত্যার বিভীষিকা ও আন্তর্জাতিক জনমতের প্রবল চাপ

শেখ জামাল: এক অকুতোভয় বীর ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক উত্তরাধিকার

নতুন সরকারের আড়াই মাসে ১ হাজার ১৩০টি হত্যা-ধর্ষণ মামলা

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরে শুরু হলো ইউরেনিয়াম লোডিং

ফজলুর রহমানের মন্তব্যে তোলপাড় সংসদ / শহীদ পরিবারের কোনো সদস্যের জামায়াতের রাজনীতি করা অসম্ভব

২৮ এপ্রিল ১৯৭১: বিশ্ববিবেকের ডাক ও রণাঙ্গনে প্রতিরোধের নতুন মাত্রা

২৭ এপ্রিল ১৯৭১: বিশ্ববিবেকের জাগ্রত কণ্ঠ ও রণাঙ্গনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম

১০

পুলিশি বাধায় পিছু হটেননি সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা / নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি

১১

জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলের ডাক মির্জা ফখরুলের

১২

মুক্তিযুদ্ধের দলিলচিত্রের রূপকার কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই

১৩

২৬ এপ্রিল ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা ও বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের এক ঐতিহাসিক দলিল

১৪

ইউনূসের ১৮ মাস / অর্থনীতির গভীর ক্ষত ও এক ‘ফোকলা’ উত্তরাধিকারের খতিয়ান

১৫

তপ্ত জনপদে অন্ধকারের শাসন

১৬

জয়পুরহাটের পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুর গণহত্যায় আজও আতঙ্কিত স্বজনহারা পরিবার

১৭

২৫ এপ্রিল ১৯৭১: পাকিস্তানি বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমীকরণ

১৮

২৪ এপ্রিল ১৯৭১: সীমান্ত উত্তেজনা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রতিরোধ সংগ্রাম

১৯

২২ এপ্রিল ১৯৭১: মুক্তির বারুদ আর পৈশাচিকতার কালো ছায়া

২০