ঢাকা Sat, 07 Mar, 2026
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

পবিপ্রবির ‘মুক্ত বাংলা’: উপকূলীয় জনপদে স্বাধীনতার অবিনাশী প্রতীক

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
পবিপ্রবির মুক্ত বাংলা

পটুয়াখালী জেলা তথা সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে যে কয়েকটি ভাস্কর্য আমাদের গর্বিত করে, তার মধ্যে অন্যতম পটুয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মুক্ত বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান চত্বরে সদর্পে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভাস্কর্যটি কেবল একটি শৈল্পিক সৃষ্টি নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় বীরত্ব আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য।

নির্মাণের প্রেক্ষাপট নেপথ্য কথা

পটুয়াখালী জেলায় মুক্তিযুদ্ধের কোনো উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রীয় স্মারক স্থাপনা না থাকায় ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি স্থায়ী ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের লাখ এবং জনতা ব্যাংকের লাখ টাকা অর্থায়নে মোট লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়। প্রখ্যাত ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান-এর সুনিপুণ নকশায় নির্মিত এই ভাস্কর্যটি ২০১১ সালের ৩০শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। শুরুতে এর নাম রাখা হয়েছিল জয় বাংলা তবে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ এক বিশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মুক্ত বাংলা

স্থাপত্যশৈলী নান্দনিকতা

মুক্ত বাংলা ভাস্কর্যটি এর উপাদান এবং গঠনের দিক থেকে আধুনিক দীর্ঘস্থায়ী। এটি মূলত মরিচাবিহীন ইস্পাত (Stainless Steel) দিয়ে তৈরি একটি প্রতীকী মুক্তিযোদ্ধার মূর্তি। এর নির্মাণশৈলীতে রয়েছে গভীর প্রতীকী তাৎপর্য:

আকৃতি উচ্চতা: ভাস্কর্যটির উচ্চতা ২২ ফুট। এর পাদদেশ দুই ধাপের বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। প্রথম ধাপটি ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এবং দ্বিতীয় ধাপটি ২২ ফুট দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট প্রস্থের।

উপাদান: এর পাদদেশ বা বেদি আচ্ছাদনে ব্যবহার করা হয়েছে কালো গ্রানাইট পাথর, যা আভিজাত্য গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলে। এর চারপাশের বেষ্টনীতে ব্যবহার করা হয়েছে লাল সিরামিক ইট।

বিপ্লবী অবয়ব: ভাস্কর্যের মূল আকর্ষণ হলো একজন প্রতীকী মুক্তিযোদ্ধার বিপ্লবী মূর্তি। তাঁর কাঁধে পিঠে ঝুলন্ত রাইফেল, মাথায় গামছা দিয়ে পেঁচানো উন্নত শিরযা বাঙালির অপরাজেয় মানসিকতার প্রতীক। দুই হাতে তিনি উঁচিয়ে ধরেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত মানচিত্রখচিত সেই জাতীয় পতাকা।

গুরুত্ব তাৎপর্য

মুক্ত বাংলা আজ কেবল পবিপ্রবি ক্যাম্পাসের কোনো স্থাপনা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের পর্যটন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যখন সড়ক দিয়ে হেঁটে যায়, এই উজ্জ্বল ইস্পাতের মুক্তিযোদ্ধার দিকে তাকালে অবলীলায় তাদের মনে পড়ে যায় একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। মরিচাবিহীন ইস্পাত যেমন কখনো ক্ষয় হয় না, আমাদের মুক্তি সংগ্রামের চেতনাও যে অক্ষয়ভাস্কর্যটি যেন নীরবে সেই বার্তাই দিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত? / রাষ্ট্রপতির কণ্ঠে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আর জিয়ার ছিয়াত্তরের ৭ মার্চ পালন—বিপরীত যাত্রা

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে উত্তরণের দর্শন

পর্দার আড়ালের ইতিহাস / কেমন ছিল ৭ মার্চের ভাষণের পূর্বপ্রস্তুতি?

৭ মার্চের ভাষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা

৭ মার্চ ভাষণের বিশ্বজনীন তাৎপর্য

৭ মার্চ ১৯৭১: বাঙালির মহাকাব্য

৭ মার্চ থেকে শুরু হলো পাকিস্তানের পতন

৭ মার্চ ও শৃঙ্খলমুক্তির অবিনাশী আহ্বান

১০

যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে গার্মেন্টস কর্মীর স্বপ্ন ও আসন্ন বাজেট

১১

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বাংলাদেশের পোশাক খাত / অস্তিত্বের সংকটে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’

১২

বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘একাত্তরের ছায়া’ / তেলের বাজারে আগুন, সংকটে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন

১৩

লক্ষ্য পূরণে অনমনীয় ট্রাম্প / বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

১৪

জ্বালানি সংকটের শঙ্কা / যানবাহনে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

১৫

মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে পিছু হটতে বাধ্য করার দাবি ইরানের

১৬

ইরানের পাল্টা আঘাত / মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ছায়া, বিপাকে ট্রাম্প প্রশাসন

১৭

৬ মার্চ ১৯৭১, উত্তপ্ত বাংলা ও ইয়াহিয়ার শেষ চাল

১৮

৫ মার্চ ১৯৭১: ক্ষোভ ও প্রতিরোধে উত্তাল রক্তস্নাত জনপদ

১৯

পহেলা মার্চ দুপুর থেকেই শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন

২০