ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
সরকারের কাছে পাওনা ৪ হাজার কোটি টাকা

অর্থাভাবে বন্ধ হতে পারে বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট। ছবি: ইউএনবি/ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত এসএস পাওয়ার লিমিটেডের ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি (যা দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি কয়লা-চালিত প্রকল্পগুলোর একটি) বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে। কয়লার মজুত প্রায় শেষের দিকে, ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বকেয়া বিলের পরিমাণ ও প্রভাব

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে এসএস পাওয়ারের পাওনা বকেয়া বিলের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই অর্থ না পাওয়ায় নতুন কয়লা আমদানির জন্য লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহকারীরা এখন আর বাকিতে কয়লা দিতে রাজি নয়। ফলে কেন্দ্রের কয়লা স্টক ক্রমাগত কমে আসছে, এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ একাধিকবার পিডিবিকে চিঠি দিয়ে বকেয়া পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল না পেলে কেন্দ্র বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। সম্প্রতি তারা জানিয়েছে যে, একটি ইউনিট ১৫ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তবে জাতীয় গ্রিডের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা কিছুটা সময় বাড়িয়ে দিয়েছে।

পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে গত কয়েক মাসে কিছু অংশ পরিশোধ করা হয়েছে (যেমন ডিসেম্বরে কয়েকশ কোটি টাকা এবং জানুয়ারিতে আরও কিছু)। তারা দ্রুত বাকি বিল পরিশোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং কেন্দ্রটিকে চালু রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

জাতীয় গ্রিডে সম্ভাব্য প্রভাব

এই কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকলে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে পারে, যা অন্যান্য কয়লা-চালিত কেন্দ্রের তুলনায় খরচ কম।

বর্তমানে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট রয়েছে, যার কারণে অনেক গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারছে না। তেলচালিত কেন্দ্রগুলো চালাতে খরচ অনেক বেশি। এ অবস্থায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোই সবচেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ দিতে পারে।

একই সময়ে ভারতের আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে, যা থেকে বাংলাদেশে সাধারণত ৭০০-৮০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ আসে। যদি বাঁশখালী কেন্দ্রটিও বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে, শীতকালে চাহিদা কম থাকলেও ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে চাহিদা বাড়বে। তখন লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেনের মতে, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কেন্দ্র অচল। এখন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো যেকোনো মূল্যে চালু রাখতে হবে, না হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

সরকার ও পিডিবি দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করে এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটিকে সচল রাখার চেষ্টা করছে। অন্যথায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সেনা, অবসান ঘটছে দীর্ঘ ২৩ বছরের অধ্যায়ের

এমবাপ্পেদের ‘শ্বাস রোধ’ করে ফাইনালে স্পেন

হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭৫৯

মা-বাবার হাতে কিশোরী খুন, বস্তাবন্দী করে মোটরসাইকেলে লাশ সড়কে ফেলেন বাবা

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর দাবি / আইনি লড়াই করতেই ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা

চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টি, ঢল ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৩০

মার্শাল আর্টের আড়ালে বোমার চর্চা: ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাবির

বগুড়ায় মিল মালিকের হাত-পা বেঁধে নৃসংশ হত্যাকাণ্ড, ট্রান্সফরমারের মালামাল লুট

সুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডব: লণ্ডভণ্ড মার্কিন দ্বীপপুঞ্জ রোটা ও গুয়াম

৮ কোটি টাকা বিতরণে পরামর্শক ও আমলাদের খরচ ৫৩ কোটি

১০

পরকীয়ার অভিযোগে তরুণ ও গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, জোরপূর্বক বিয়ে

১১

খাগড়াছড়িতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাহিনের মৃত্যুদণ্ড

১২

জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

১৩

খাগড়াছড়িতে দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারের জেরে গোলাগুলি, নিহত ৩

১৪

৬ জুলাই ১৯৭১: মুক্তাঞ্চলে জনপ্রতিনিধিদের শপথ, পাকিস্তানের মিথ্যাচার ও কিসিঞ্জারের অবরুদ্ধ যাত্রা

১৫

নিভিয়ে দেয়া হয়েছে ‘শিখা অনির্বাণ’

১৬

হোলি আর্টিজান হামলার এক দশক: ট্র্যাজেডি, বিচারপ্রক্রিয়া এবং বর্তমান নিরাপত্তা সমীক্ষা

১৭

জাপানের জমাট রক্ষণ চূর্ণ করে ব্রাজিলের উল্লাস

১৮

৭ শিল্প অঞ্চলে ৪৫৭ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ, বিপাকে তৈরি পোশাক খাত

১৯

বোবা কান্নার মেঘনা ও আমাদের মরে যাওয়া মনুষ্যত্ব

২০