ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

জয় বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত ভাস্কর্যটির মূল নকশা করেছেন সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব জাহান। মূলনাম জয় বাংলা স্লোগান থেকে গৃহীত। ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর, ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও পাঁচটি স্মৃতিস্তম্ভের অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে স্থাপিত প্রথম ভাস্কর্য।

নির্মাণ

২০১৭ সালের জুনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বারক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল করে। তখন নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব জাহান, মুজাহিদুর রহমান মুসা, জয়াশীষ আচার্য ও ও তপন ঘোষের সহযোগে জয় বাংলার নকশা করেন। ভাস্কর্যের জন্য প্রাথমিক ৫টি নকশা হতে বর্তমান নকশা নির্বাচন করা হয়।

সকল মানব প্রতিকৃতি ‘জীবিত মানুষের ছাঁচ’ থেকে নেওয়া। লোহা, সিমেন্ট, পাথর, কাচ তন্তু এটির মূল উপাদান। লোহার অবকাঠামোর ওপর কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে অবয়ব বানানো হয়েছে। ওপরের অংশ লাল ও নিচের অংশ সাদা রঙে আবৃত। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রলেপে চামড়ার ব্যবহার করা হয়েছে। নিচে দাড়ানো শিক্ষার্থীদের প্রতিকৃতিগুলি সিমেন্টের ঢালাইয়ের উপর মার্বেল চুর্ণ দিয়ে আবৃত।

২০১৮ সালের মার্চে নির্মাণ শুরু হয়। নির্মাণের জন্য ১০ লাখ টাকার ব্যক্তিগত অর্থায়ন লাভ করে। প্রাথমিক বাজেটের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় আরও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে ২০ লাখ টাকা খরচ হয়। কাজ সম্পূর্ণ করতে নয় মাস সময় লাগে।

বর্ণনা

ভাস্কর্যটি দুই স্তরে স্থাপিত। উপরের স্তরে দুজন পুরুষ ও একজন নারী মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি আছে, যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে সকলের অংশগ্রহণকে বোঝায়। পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের একজন বাঙ্গালি, অপরজন পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃ-গোষ্টির একজন; যা মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালিদের যৌথ অংশগ্রহণের ভাববহন করে। ভূমিস্তরে বর্তমান প্রজন্মের ২০ জন শিক্ষার্থীর প্রতিকৃতি নির্মিত, যারা মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ধরে রাখে।

ভাস্কর্যটির উচ্চতা ভূমি থেকে প্রায় ১৮ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ২২ ফুট। উপরের স্তরে দাড়ানো দুই মুক্তিযোদ্ধার উচ্চতা ১১ ফুট। নিচের স্তরে দাঁড়ানো ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট থেকে ৬ ফুট।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আজ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’

‘বারবার মামলা না দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেন’

আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

সিঙ্গাপুরেও মিলল বাড়ি ও ব্যাংক হিসাব / সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ১০ হাজার কোটি টাকার বিদেশি সম্পদ জব্দ

​​​​​​​শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে ৩ জনের লাশ উদ্ধার

মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠক: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সংলাপ ও নিরাপদ সমুদ্রপথের তাগিদ

গুলশানে আ’লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৩২

সমকাল কার্যালয়ে সাবেক ব্যুরো প্রধানের লাশ উদ্ধার

রংপুরে চার খুন: নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা, গৃহশিক্ষিকা ও পুলিশ কর্মকর্তা

যেভাবে সমন্বিত ডিজিটাল-রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল ‘গুমচর’

১০

শাহজালাল বিমানবন্দরের সামনে প্রবাসীর ২০০ গ্রাম স্বর্ণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ

১১

এনবিআরে বড় রদবদল: একযোগে ৩৬ অতিরিক্ত কর কমিশনার বদলি

১২

প্রণোদনার দ্বিতীয় ধাপ: ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণে আরও ১০ ব্যাংকের চুক্তি

১৩

প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল: কোন গ্রেডে কত বেতনের প্রস্তাব?

১৪

বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা / বাংলাদেশে চাকরি হারাবে ছয় লাখ মানুষ, বাড়বে দারিদ্র্য

১৫

গাজীপুরে নিখোঁজের পরদিন ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে উঠল শিশুর মরদেহ

১৬

ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকার করুণ মৃত্যু

১৭

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৬২৬, নিখোঁজ আড়াই হাজার

১৮

রঙ-তুলিতে সম্প্রীতি ও স্বাধীনতার গল্প, পুরস্কার পেল ১২ শিশু-কিশোর

১৯

রংপুরে ৪ খুনের বিচার দাবিতে ধানমন্ডিতে মানববন্ধন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে বিতণ্ডা

২০