ঢাকা রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

জয় বাংলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত ভাস্কর্যটির মূল নকশা করেছেন সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব জাহান। মূলনাম জয় বাংলা স্লোগান থেকে গৃহীত। ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর, ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও পাঁচটি স্মৃতিস্তম্ভের অন্যতম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে স্থাপিত প্রথম ভাস্কর্য।

নির্মাণ

২০১৭ সালের জুনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বারক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল করে। তখন নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ সোহরাব জাহান, মুজাহিদুর রহমান মুসা, জয়াশীষ আচার্য ও ও তপন ঘোষের সহযোগে জয় বাংলার নকশা করেন। ভাস্কর্যের জন্য প্রাথমিক ৫টি নকশা হতে বর্তমান নকশা নির্বাচন করা হয়।

সকল মানব প্রতিকৃতি ‘জীবিত মানুষের ছাঁচ’ থেকে নেওয়া। লোহা, সিমেন্ট, পাথর, কাচ তন্তু এটির মূল উপাদান। লোহার অবকাঠামোর ওপর কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে অবয়ব বানানো হয়েছে। ওপরের অংশ লাল ও নিচের অংশ সাদা রঙে আবৃত। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রলেপে চামড়ার ব্যবহার করা হয়েছে। নিচে দাড়ানো শিক্ষার্থীদের প্রতিকৃতিগুলি সিমেন্টের ঢালাইয়ের উপর মার্বেল চুর্ণ দিয়ে আবৃত।

২০১৮ সালের মার্চে নির্মাণ শুরু হয়। নির্মাণের জন্য ১০ লাখ টাকার ব্যক্তিগত অর্থায়ন লাভ করে। প্রাথমিক বাজেটের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় আরও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে ২০ লাখ টাকা খরচ হয়। কাজ সম্পূর্ণ করতে নয় মাস সময় লাগে।

বর্ণনা

ভাস্কর্যটি দুই স্তরে স্থাপিত। উপরের স্তরে দুজন পুরুষ ও একজন নারী মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি আছে, যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে সকলের অংশগ্রহণকে বোঝায়। পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের একজন বাঙ্গালি, অপরজন পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃ-গোষ্টির একজন; যা মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালিদের যৌথ অংশগ্রহণের ভাববহন করে। ভূমিস্তরে বর্তমান প্রজন্মের ২০ জন শিক্ষার্থীর প্রতিকৃতি নির্মিত, যারা মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ধরে রাখে।

ভাস্কর্যটির উচ্চতা ভূমি থেকে প্রায় ১৮ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ২২ ফুট। উপরের স্তরে দাড়ানো দুই মুক্তিযোদ্ধার উচ্চতা ১১ ফুট। নিচের স্তরে দাঁড়ানো ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট থেকে ৬ ফুট।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত? / রাষ্ট্রপতির কণ্ঠে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আর জিয়ার ছিয়াত্তরের ৭ মার্চ পালন—বিপরীত যাত্রা

সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে উত্তরণের দর্শন

পর্দার আড়ালের ইতিহাস / কেমন ছিল ৭ মার্চের ভাষণের পূর্বপ্রস্তুতি?

৭ মার্চের ভাষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা

৭ মার্চ ভাষণের বিশ্বজনীন তাৎপর্য

৭ মার্চ ১৯৭১: বাঙালির মহাকাব্য

৭ মার্চ থেকে শুরু হলো পাকিস্তানের পতন

৭ মার্চ ও শৃঙ্খলমুক্তির অবিনাশী আহ্বান

১০

যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে গার্মেন্টস কর্মীর স্বপ্ন ও আসন্ন বাজেট

১১

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বাংলাদেশের পোশাক খাত / অস্তিত্বের সংকটে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’

১২

বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘একাত্তরের ছায়া’ / তেলের বাজারে আগুন, সংকটে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন

১৩

লক্ষ্য পূরণে অনমনীয় ট্রাম্প / বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

১৪

জ্বালানি সংকটের শঙ্কা / যানবাহনে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

১৫

মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে পিছু হটতে বাধ্য করার দাবি ইরানের

১৬

ইরানের পাল্টা আঘাত / মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ছায়া, বিপাকে ট্রাম্প প্রশাসন

১৭

৬ মার্চ ১৯৭১, উত্তপ্ত বাংলা ও ইয়াহিয়ার শেষ চাল

১৮

৫ মার্চ ১৯৭১: ক্ষোভ ও প্রতিরোধে উত্তাল রক্তস্নাত জনপদ

১৯

পহেলা মার্চ দুপুর থেকেই শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন

২০