ঢাকা শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

জঙ্গি সংগঠনগুলোর ন্যারেটিভ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

মুনীর হাজারী
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
জঙ্গি সংগঠনগুলোর ন্যারেটিভ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

ইউনুস যে দেশটার কোন্ জায়গায় রাখা যাইতেছে, এটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। আবদুল্লাহ মায়মুন নামে সম্প্রতি একজনের জামিন হয়েছে। তার সাথে আমার মজার কিছু স্মৃতি আছে। প্রথম তার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল মুফতি হারুন ইজহারের ওখানে, পরে সাক্ষাৎ হয় কাশিমপুর কারাগারে। একই বিল্ডিংয়ে, পাশের সেলেই ছিল।

প্রথম দিন সাক্ষাতে হালপুরসির পরপরই আমাকে তার সংগঠন ‘জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকিয়া’য় যোগদানের দাওয়াত দেয় এবং তাদের ব্লকে মাঝে মাঝে দরস দেয়ার অনুরোধ করে। আমি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘আপনাকে আমি চিনতাম আল-কায়েদার দাঈ হিসেবে, শারকিয়ায় কীভাবে যোগ দিলেন, বা কেন যোগ দিলেন?’ ২০১৪-২০১৫ সালের দিকে সে পুরোপুরি আল-কায়েদা এক্টিভিস্ট ছিল। ‘হানীন ইলদারম’ নামে লেখালেখি করতো। আল-কায়েদার ফোরাম ‘দাওয়াহ ইলাল্লাহ’রও মেম্বার ছিল। তখন যারা অনলাইনে ছিলেন, তাদের মনে থাকার কথা। পরে কায়েদার কিছু দায়িত্বশীল মিলে শারকিয়া গঠন করে। মায়মুন সেখানে যোগ দেয়। সংযুক্ত ভিডিওটি পাহাড়ে তাদের গোপন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের।

যাহোক, উনি আমাকে বললেন, ‘শারকিয়া মূলত আল-কায়েদারই একটা শাখা। তারা দাওয়াতি ফিল্ড তৈরি করে, আর আমরা সরাসরি আসকারি (সামরিক) ফিল্ড তৈরি করছি। আপাতত কুকিচিনের সাথে চুক্তিবদ্ধভাবে আমরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছি।’ কায়েদার একজন ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলও আমাকে এমনটাই বলেছিলেন।

যাহোক, এরপর আমি তাদের বাতিনি কার্যক্রম সম্পর্কে মৌলিক কিছু প্রশ্ন করেছিলাম, যার উত্তর সে দিতে পারেনি, বরং আমাকে ফিদেল কাস্ত্রোর জীবনীর আলোকে লেখা সাইফ আল-আদেল (কায়েদার একাংশের প্রধান) এর কিছু বই সাজেস্ট করেছিল। আমি বললাম, ‘আপনি আলেম মানুষ, আলেমদের বই সাজেস্ট করুন। ফিদেল কাস্ত্রো কিংবা মাও সে-তুং থেকে আমাকে জিহাদ শিখতে হবে না।’ তিনি কোনো উত্তর করেননি। এবং এরপর আর পারতপক্ষে আমার সামনেও পড়েননি।

সম্প্রতি এমন আরও বেশ কয়েকটি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীলের জামিন হয়েছে। বলতে গেলে, শীর্ষ জঙ্গিদের তেমন কেউই এখন আর জেলে নেই। ফাঁসি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অল্প কয়েকজন ছাড়া সবাই-ই মোটামুটি কারামুক্ত। ‘দেশে কোনো জঙ্গি নাই, সবই সাজানো নাটক’—এই ন্যারেটিভ তৈরি করে, এর পক্ষে জনমত তৈরি করে, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ে লবিং করে, গত দেড় বছরে এই কাজটা সম্পন্ন করেছে জঙ্গিরা। আমি বারবার বলছি, নির্বাচিত সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই ন্যারেটিভ ভাঙা এবং এদের মোকাবেলা করা। নির্বাচিত সরকার দূরদর্শিতার সাথে এই কাজটা করতে না পারলে পুরো দেশ তছনছ হয়ে যাবে। আরেকটা ১৭ আগস্ট হবে। বাংলাদেশকে বিশ্ব-দরবারে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে পারবে পতিত স্বৈরাচারীরা। আর এর দায়ভার আসবে পুরোপুরি জামায়াত বা বিএনপির ওপর। এবং এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও নিজেদেরকে প্রাসঙ্গিক করিয়া তুলবে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জঙ্গি সংগঠনগুলোর ন্যারেটিভ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুক্তির আহ্বান ও শ্বাশত মুজিব’

সবচেয়ে উঁচুতে দাঁড়িয়ে ‘বীর’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি

ইতিহাসের সাক্ষী ঝিনাইদহের ‘প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ফলক’

স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ

পবিপ্রবির ‘মুক্ত বাংলা’: উপকূলীয় জনপদে স্বাধীনতার অবিনাশী প্রতীক

কারাগারের গেটে স্ত্রী-সন্তানের লাশ: একটি রাষ্ট্রের নৈতিক পতনের চিত্র

ঔপনিবেশিক আমলে বাঙালি নারী ও তাদের বিলাতযাত্রা

১০

নির্বাচনের মাঠে ধর্মের কার্ড: গণতন্ত্রের জন্য হুমকি?

১১

নারী ভোটারদের এনআইডি কপি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ আশঙ্কাজনক: মাহদী আমিন

১২

সরকারের কাছে পাওনা ৪ হাজার কোটি টাকা / অর্থাভাবে বন্ধ হতে পারে বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

১৩

নয়া প্ল্যাটফর্ম নয়, পুরানো ভণ্ডামির নতুন দোকান

১৪

ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ের উদ্যোগ বন্ধ হোক

১৫

জামায়াতে ইসলামী অনুতপ্ত নয় একাত্তরের জন্য ক্ষমা চায়নি

১৬

নিজে নিজে না নিভলে নেভে না যে আগুন

১৭

বৈষম্যের অভিশাপ / নতুন প্রজন্ম কি কেবলই একটি ‘বন্দি’ প্রজন্ম?

১৮

ঋণের বোঝায় বাড়ছে আত্মহত্যা: অর্থনৈতিক সংকটের ছায়ায় এক চলমান মানবিক বিপর্যয়

১৯

ঋণের সামাজিক প্রভাব: একটি গভীর সংকটের ছায়া

২০