ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

জঙ্গি সংগঠনগুলোর ন্যারেটিভ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

মুনীর হাজারী
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
জঙ্গি সংগঠনগুলোর ন্যারেটিভ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

ইউনুস যে দেশটার কোন্ জায়গায় রাখা যাইতেছে, এটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। আবদুল্লাহ মায়মুন নামে সম্প্রতি একজনের জামিন হয়েছে। তার সাথে আমার মজার কিছু স্মৃতি আছে। প্রথম তার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল মুফতি হারুন ইজহারের ওখানে, পরে সাক্ষাৎ হয় কাশিমপুর কারাগারে। একই বিল্ডিংয়ে, পাশের সেলেই ছিল।

প্রথম দিন সাক্ষাতে হালপুরসির পরপরই আমাকে তার সংগঠন ‘জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকিয়া’য় যোগদানের দাওয়াত দেয় এবং তাদের ব্লকে মাঝে মাঝে দরস দেয়ার অনুরোধ করে। আমি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘আপনাকে আমি চিনতাম আল-কায়েদার দাঈ হিসেবে, শারকিয়ায় কীভাবে যোগ দিলেন, বা কেন যোগ দিলেন?’ ২০১৪-২০১৫ সালের দিকে সে পুরোপুরি আল-কায়েদা এক্টিভিস্ট ছিল। ‘হানীন ইলদারম’ নামে লেখালেখি করতো। আল-কায়েদার ফোরাম ‘দাওয়াহ ইলাল্লাহ’রও মেম্বার ছিল। তখন যারা অনলাইনে ছিলেন, তাদের মনে থাকার কথা। পরে কায়েদার কিছু দায়িত্বশীল মিলে শারকিয়া গঠন করে। মায়মুন সেখানে যোগ দেয়। সংযুক্ত ভিডিওটি পাহাড়ে তাদের গোপন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের।

যাহোক, উনি আমাকে বললেন, ‘শারকিয়া মূলত আল-কায়েদারই একটা শাখা। তারা দাওয়াতি ফিল্ড তৈরি করে, আর আমরা সরাসরি আসকারি (সামরিক) ফিল্ড তৈরি করছি। আপাতত কুকিচিনের সাথে চুক্তিবদ্ধভাবে আমরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছি।’ কায়েদার একজন ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলও আমাকে এমনটাই বলেছিলেন।

যাহোক, এরপর আমি তাদের বাতিনি কার্যক্রম সম্পর্কে মৌলিক কিছু প্রশ্ন করেছিলাম, যার উত্তর সে দিতে পারেনি, বরং আমাকে ফিদেল কাস্ত্রোর জীবনীর আলোকে লেখা সাইফ আল-আদেল (কায়েদার একাংশের প্রধান) এর কিছু বই সাজেস্ট করেছিল। আমি বললাম, ‘আপনি আলেম মানুষ, আলেমদের বই সাজেস্ট করুন। ফিদেল কাস্ত্রো কিংবা মাও সে-তুং থেকে আমাকে জিহাদ শিখতে হবে না।’ তিনি কোনো উত্তর করেননি। এবং এরপর আর পারতপক্ষে আমার সামনেও পড়েননি।

সম্প্রতি এমন আরও বেশ কয়েকটি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীলের জামিন হয়েছে। বলতে গেলে, শীর্ষ জঙ্গিদের তেমন কেউই এখন আর জেলে নেই। ফাঁসি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অল্প কয়েকজন ছাড়া সবাই-ই মোটামুটি কারামুক্ত। ‘দেশে কোনো জঙ্গি নাই, সবই সাজানো নাটক’—এই ন্যারেটিভ তৈরি করে, এর পক্ষে জনমত তৈরি করে, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ে লবিং করে, গত দেড় বছরে এই কাজটা সম্পন্ন করেছে জঙ্গিরা। আমি বারবার বলছি, নির্বাচিত সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই ন্যারেটিভ ভাঙা এবং এদের মোকাবেলা করা। নির্বাচিত সরকার দূরদর্শিতার সাথে এই কাজটা করতে না পারলে পুরো দেশ তছনছ হয়ে যাবে। আরেকটা ১৭ আগস্ট হবে। বাংলাদেশকে বিশ্ব-দরবারে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে পারবে পতিত স্বৈরাচারীরা। আর এর দায়ভার আসবে পুরোপুরি জামায়াত বা বিএনপির ওপর। এবং এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও নিজেদেরকে প্রাসঙ্গিক করিয়া তুলবে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২১ জুন ১৯৭১: রণাঙ্গনে প্রতিরোধ যুদ্ধ, যুক্তরাজ্য ও ভারতের যৌথ বিবৃতি

১৮ জুন ১৯৭১: ঢাকায় দুঃসাহসিক গেরিলা আক্রমণ, কান্দাপাড়া গণহত্যা এবং রণাঙ্গনের প্রতিরোধ

বাবা নাকি ৭১-এর শহীদ, অথচ জামায়াত এমপির জন্ম ১৯৮১ সালে

আলজেরিয়াকে উড়িয়ে আর্জেন্টিনার শুভ সূচনা

১৭ জুন ১৯৭১: জগদীশপুর গণহত্যা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক যুদ্ধ এবং প্রতিরোধ

১১ জুন ১৯৭১: বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পক্ষে সংহতি

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন

৭ জুন ১৯৭১: বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা ও অবরুদ্ধ বাংলায় প্রতিরোধ

৬ জুন ১৯৭১: অসাম্প্রদায়িকতার ডাক, রাজনৈতিক সমাধানের ৪ শর্ত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক, কোন দেশে কত?

১০

বাড়ল বিদ্যুতের দাম, মূল্যস্ফীতির আগুনে নতুন চাপ

১১

নাটোরের ছাতনী গণহত্যা

১২

৪ জুন ১৯৭১: ছাতনীতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, আন্তর্জাতিক চাপ ও রণাঙ্গনে প্রতিরোধ

১৩

৩ জুন ১৯৭১: জাতিসংঘে তোলপাড়, বিশ্ব জনমত গঠন ও রণাঙ্গনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত

১৪

তোফায়েল আহমেদ / বর্ণাঢ্য রাজনীতির এক ফিনিক্স পাখি

১৫

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ আর নেই

১৬

১ জুন ১৯৭১: নগরকান্দা গণহত্যা, রণাঙ্গনে বিজয় ও বিশ্ব কূটনীতির নতুন মোড়

১৭

৩১ মে ১৯৭১: ‘সমঝোতার সুযোগ নেই’, বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ও রণাঙ্গনের খণ্ডচিত্র

১৮

৩০ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, রণাঙ্গনের প্রতিরোধ ও বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গন

১৯

রক্তস্নাত বুরুঙ্গা গণহত্যা (সিলেট)

২০