ঢাকা শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

ইতিহাসের সাক্ষী ঝিনাইদহের ‘প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ফলক’

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২২ পিএম
ঝিনাইদহের ‘প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ফলক’

ঝিনাইদহ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস কেবল ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের গল্প নয়; এটি বীরত্বের সেই সব মুহূর্তের সমষ্টি, যা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ১৯৭১ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ঝিনাইদহের মাটিতে রচিত হয়েছিল এমনই এক বীরত্বগাথা। সেই স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে নির্মিত হয়েছিল ‘প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ফলক’, যা আজ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রতিরোধের সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ। ঢাকা যখন উত্তাল, তখন ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষ ও বাঙালি পুলিশ সদস্যরা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছিলেন অতর্কিত প্রতিরোধ। ইতিহাসবিদদের মতে, ২৫ মার্চের কালরাত্রির আগেই ঝিনাইদহের বীর সন্তানেরা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। মহিষাকুণ্ডুর এই মোড়টি হয়ে উঠেছিল মুক্তিকামী মানুষের মিলনস্থল। সেই অকুতোভয় প্রতিরোধের স্মৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই নির্মিত হয় এই স্মারক ভাস্কর্য।

ভাস্কর্যের গঠন ও তাৎপর্য

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের মহিষাকুণ্ডু মোড়ে অবস্থিত এই ফলকটি স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে অত্যন্ত অর্থবহ। এর মূল কাঠামোর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে মুক্তিপাগল মানুষের একতাবদ্ধ শক্তিকে। এটি কেবল ইট-পাথরের কোনো স্তম্ভ নয়, বরং ঝিনাইদহবাসীর অদম্য সাহস আর ত্যাগের প্রতীক। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন এবং ক্ষণিকের জন্য হলেও থমকে দাঁড়ান ইতিহাসের এই মূর্ত প্রতীকের সামনে।

বর্তমান অবস্থা ও স্থানীয়দের দাবি

সরেজমিনে দেখা যায়, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভাস্কর্যটির সৌন্দর্য কিছুটা ম্লান হয়েছে। ফলকের চারপাশের এলাকা অনেক সময় দখল ও ময়লা-আবর্জনার কবলে পড়ে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই ভাস্কর্যটি আমাদের অহংকার। কিন্তু সঠিক প্রচার ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নতুন প্রজন্ম এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি জানতে পারছে না।"

শহরবাসীর দাবি, এই স্মারক ফলকটিকে ঘিরে একটি দৃষ্টিনন্দন চত্বর এবং এর ইতিহাস সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত ফলক স্থাপন করা হোক। এতে করে পর্যটক এবং শিক্ষার্থীরা আমাদের স্থানীয় গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম দিকের সেই গৌরবময় প্রতিরোধ কেবল ঝিনাইদহের নয়, সারা বাংলাদেশের সম্পদ। ‘প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ফলক’ সংরক্ষণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ইতিহাসের এই স্মারকটি যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করা এখন সময়ের দাবি।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুক্তির আহ্বান ও শ্বাশত মুজিব’

সবচেয়ে উঁচুতে দাঁড়িয়ে ‘বীর’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জয় বাংলা’

ফরিদপুর স্টেডিয়াম বধ্যভূমি

ইতিহাসের সাক্ষী ঝিনাইদহের ‘প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ ফলক’

স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য / রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ

পবিপ্রবির ‘মুক্ত বাংলা’: উপকূলীয় জনপদে স্বাধীনতার অবিনাশী প্রতীক

কারাগারের গেটে স্ত্রী-সন্তানের লাশ: একটি রাষ্ট্রের নৈতিক পতনের চিত্র

ঔপনিবেশিক আমলে বাঙালি নারী ও তাদের বিলাতযাত্রা

নির্বাচনের মাঠে ধর্মের কার্ড: গণতন্ত্রের জন্য হুমকি?

১০

নারী ভোটারদের এনআইডি কপি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ আশঙ্কাজনক: মাহদী আমিন

১১

সরকারের কাছে পাওনা ৪ হাজার কোটি টাকা / অর্থাভাবে বন্ধ হতে পারে বাঁশখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

১২

নয়া প্ল্যাটফর্ম নয়, পুরানো ভণ্ডামির নতুন দোকান

১৩

ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ের উদ্যোগ বন্ধ হোক

১৪

জামায়াতে ইসলামী অনুতপ্ত নয় একাত্তরের জন্য ক্ষমা চায়নি

১৫

নিজে নিজে না নিভলে নেভে না যে আগুন

১৬

বৈষম্যের অভিশাপ / নতুন প্রজন্ম কি কেবলই একটি ‘বন্দি’ প্রজন্ম?

১৭

ঋণের বোঝায় বাড়ছে আত্মহত্যা: অর্থনৈতিক সংকটের ছায়ায় এক চলমান মানবিক বিপর্যয়

১৮

ঋণের সামাজিক প্রভাব: একটি গভীর সংকটের ছায়া

১৯

অবশেষে ‘ঠাণ্ডা-লড়াইয়ে’ জয়ী ওয়াকার!

২০