ঢাকা রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় তাহমিনার পরিবার

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৫, ০৪:২৯ পিএম
তাহমিনা আক্তার

নদীভাঙন ও চরম দারিদ্র্যের মাঝেও হার মানেনি তাহমিনা আক্তারের স্বপ্ন। নোয়াখালীর উপকূলীয় ও দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার প্রত্যন্ত জোডখালী গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে সে এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের মধ্যেই এক নতুন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাহমিনার মা-বাবা। ভর্তি ও ঢাকায় লেখাপড়ার খরচ কীভাবে জোগাবেন, সেই প্রশ্ন এখন তাদের কাছে বড় এক বোঝা।

তাহমিনার বাড়ি হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জোডখালী গ্রামে। বাবা কামাল উদ্দিন একজন দিনমজুর, স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। মা রাবেয়া খাতুন গৃহিণী। সংসারে রয়েছে আরও চার ভাইবোন।

জানা যায়, দরিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করেই বেড়া উঠা তাহমিনা আক্তারের। হাতিয়া জনকল্যাণ শিক্ষা ট্রাস্ট হাইস্কুল থেকে ৪.৮৩ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও মোহাম্মদ আলী কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেছেন। অন্যদের পুরাতন বই সংগ্রহ করে শেষ করেছেন পড়ালেখা। কোচিংয়ের সামর্থ্য না থাকলেও প্রবল আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায়ে নিজেকে প্রস্তুত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কোনো কোচিং ছাড়াই তাহমিনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তার পরিবার ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

তাহমিনা আক্তার বলেন, পুরাতন বই সংগ্রহ করে আমি পড়াশোনা করেছি। টাকার অভাবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পাশাপাশি গুচ্ছে এখনো রেজাল্ট দেয়নি। আমি জানি না ঢাকায় গিয়ে কিভাবে পড়াশোনা করব, তা এখনো ভাবতে পারছি না। কিন্তু আমি হাল ছাড়তে চাই না। জীবনে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখি।

তাহমিনার মা রাবেয়া খাতুন বলেন, মেয়ে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সে অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করেছে। কিন্তু এখন তো ভর্তি আর পড়াশোনার খরচ জোগানোই বড় চিন্তা।

স্থানীয় অনেকেই তাহমিনার সাফল্যে আনন্দিত অন্যদিকে আনন্দিত তাহমিনার শিক্ষকরাও। মোহাম্মদ আলী কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজমির হোসেন বলেন, তাহমিনা আমাদের কলেজের গর্ব। সে শুধু মেধাবীই নয়, অত্যন্ত বিনয়ী ও পরিশ্রমী একজন শিক্ষার্থী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া আমাদের জন্য গর্বের হলেও, তার পরিবারের জন্য তা এখন এক নতুন দুশ্চিন্তার নাম। যদি উপযুক্ত সহায়তা পায় এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, তাহমিনা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য এক মূল্যবান সম্পদে পরিণত হবে।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: মুখে কালো কাপড় বেঁধে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

৩ মে ১৯৭১: অবরুদ্ধ স্বদেশ ও বিশ্ববিবেকের আর্তনাদ

হামে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল, দায় কার?

হাম মহামারিতে বাংলাদেশে নিরীহ শিশুদের মৃত্যুর মিছিল

ঈশানগোপালপুর গণহত্যা: ফরিদপুরে ১৯৭১ সালের ২ মে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

গাভা নরেরকাঠী গণহত্যা: ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়

২ মে ১৯৭১: রাজাকাররা বরিশাল ও ফরিদপুরে নির্মম গণহত্যা চালায়

রেমিট্যান্সের রেকর্ডের আড়ালে ঢাকা পড়ছে লাশের মিছিল

আসিফ নজরুলের ১৮ মাস: দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ‘বদলি বাণিজ্য’

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: আমিরাতকে রক্ষায় ঢাল হলো ইসরায়েলি ‘লেজার প্রযুক্তি’

১০

১ মে ১৯৭১: ইতিহাসের আয়নায় রক্তঝরা দিন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

১১

উনুস সওদাগরের সালতামামি

১২

ঋণের জালে পিষ্ট অর্থনীতি

১৩

খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশ পার, বড় চ্যালেঞ্জ রাজস্ব আদায়

১৪

রাউজানে থামছে না লাশের মিছিল: নেপথ্যে আধিপত্য ও বালুমহাল

১৫

নাফ নদী থেকে আরাকান আর্মির হাতে ৭ জেলে অপহৃত

১৬

৩০ এপ্রিল ১৯৭১: ‘বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামীরা যুদ্ধে জয়ী হবেই’

১৭

নিবর্তনমূলক আইনে মামলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

১৮

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি: জাতীয় স্বার্থ সংকট ও প্রতিবাদের আওয়াজ

১৯

ডিজিটাল অরাজকতা বনাম কর্পোরেট শাসন / সোশ্যাল মিডিয়া কি ‘প্যারালাল সরকার’?

২০