ঢাকা সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা
জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

যানবাহনে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
যানবাহনে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থায় বৈশ্বিক জ্বালানি রুটে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থানে গিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং মজুতদারি রুখতে এখন থেকে যানবাহনে তেল নেওয়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিপিসি থেকে জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় এই নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোন যানবাহনে কতটুকু তেল?

বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি যানবাহন দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে না। নির্ধারিত সীমাগুলো হলো:

মোটরসাইকেল: সর্বোচ্চ ২ লিটার (পেট্রোল/অকটেন)।

ব্যক্তিগত গাড়ি (কার): সর্বোচ্চ ১০ লিটার (পেট্রোল/অকটেন)।

এসইউভি (জিপ) ও মাইক্রোবাস: ২০ থেকে ২৫ লিটার (পেট্রোল/অকটেন)।

পিকআপ ও লোকাল বাস: ৭০ থেকে ৮০ লিটার (ডিজেল)।

দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান: ২০০ থেকে ২২০ লিটার (ডিজেল)।

মজুতদারি ও আতঙ্ক রোধে কড়াকড়ি

বিপিসি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা বিঘ্নিত হওয়ায় বাজারে নেতিবাচক গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক ও ডিলারদের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ ও অবৈধ মজুতের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এই কৃত্রিম সংকট রুখতেই তেলের বিক্রয় সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কিছু ভোক্তা ও ডিলার ফিলিং স্টেশন থেকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করছেন, যা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এখন থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোকে প্রতিটি বিক্রির বিপরীতে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে বাধ্যতামূলকভাবে রসিদ দিতে হবে। গ্রাহককে পরবর্তীবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ প্রদর্শন করতে হবে।

সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস

জনগণের আতঙ্ক কমানোর লক্ষ্যে বিপিসি জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানির নির্ধারিত সূচি বজায় রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে তেলের চালান দেশে আসছে। প্রধান স্থাপনা থেকে সারা দেশের সব ডিপোতে রেল ওয়াগন ও ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে নিয়মিত তেল পাঠানো হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত বা ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে।

ডিলারদের প্রতি নির্দেশনা

ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহের আগে বর্তমান বরাদ্দ ও মজুতের তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। কোনো অবস্থাতেই ডিলাররা বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল গ্রহণ করতে পারবেন না। এছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোকে নিয়মিতভাবে তেল মজুত ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করতে হবে।

বিপিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই নিয়ম সাময়িক এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনা করা হবে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নীতি-ভুলের খেসারত / মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ৩০ লাখ শিশু, ফিরছে নির্মূল হওয়া রোগ

১৯ এপ্রিল ১৯৭১: প্রবাসী সরকারের শাসনতান্ত্রিক নির্দেশনা ও রণক্ষেত্রে রক্তের দাগ

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

১৭ এপ্রিল ১৯৭১: স্বাধীন বাংলাদেশের সূর্যোদয় ও মুজিবনগর সরকার

মুজিবনগর দিবস: এক অমর ইতিহাসের মহাকাব্য

১৬ এপ্রিল ১৯৭১: শপথের প্রতীক্ষা ও রণক্ষেত্রের আর্তনাদ

মুজিবনগর ও আমাদের প্রথম সাংবিধানিক পরিচয়

১২ এপ্রিল ১৯৭১: সরকারের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব ও বালারখাইলের রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি

রক্ষাকালী মন্দির গণহত্যা: পাবনার এক রক্তাক্ত অধ্যায়

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম ভাষণ

১০

১১ এপ্রিল ১৯৭১: তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ ও সংগঠিত প্রতিরোধের সূচনা

১১

১০ এপ্রিল ১৯৭১: বাংলাদেশের প্রথম সরকার ও স্বাধীনতার সনদ

১২

১০ এপ্রিল ১৯৭১: যখন যুদ্ধের অন্ধকারে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আইনি সূর্য

১৩

০৫ এপ্রিল ১৯৭১: বহুমুখী যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

১৪

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

১৫

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

১৬

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

১৭

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

১৮

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

১৯

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

২০