

জাতীয় সংসদে গতকাল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততা নিয়ে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিরোধী দলের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অধিবেশন চলাকালীন সংসদ কক্ষে হট্টগোল ও হইচইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে দাবি করেন, শহীদ পরিবারের কোনো সদস্যের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করা অসম্ভব। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, ‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে তা ডাবল অপরাধ।’ তার এই মন্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের বেঞ্চ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। বিরোধী সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে সংসদ কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্পিকারের হস্তক্ষেপ ও সতর্কতা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এটি জাতীয় সংসদ। এখানে সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আপনারা কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অফ প্রসিডিউর) অনুসরণ করুন।” স্পিকার আরও বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণের চেয়ে যুক্তি খণ্ডনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। ফজলুর রহমানের বক্তব্যের যেসব অংশ অসংসদীয় বলে মনে হবে, তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ বা বাদ দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
শফিকুর রহমানের ক্ষোভ
বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “তিনি (ফজলুর রহমান) ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আঘাত করেছেন। নিজের অবদানের কথা বলতে গিয়ে অন্যের অবদানের ওপর হাতুড়ি পেটানোর অধিকার কারও নেই।” শফিকুর রহমান ফজলুর রহমানের মন্তব্যকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে অভিহিত করেন এবং তা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
বিতর্কের অন্য মাত্রা
সংসদ অধিবেশনে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরেও মতপার্থক্য ফুটে ওঠে। ফজলুর রহমান জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধ বা বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করার বিরোধীতা করেন। এছাড়া গত ৫ আগস্টের পর পুলিশের ওপর হামলা ও থানা লুটের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তিনি।
অধিবেশনের উত্তাপ কমাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাঁড়িয়ে সবাইকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা ভূগোলের বিতর্কে আছি, বেশি ইতিহাস চর্চা করতে গেলে মাঝেমধ্যে এমন ব্যত্যয় হবেই। কিন্তু সংসদের পরিবেশ রক্ষার্থে আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
সবশেষে স্পিকারের আশ্বাসে অধিবেশন স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসে। তবে দিনভর সংসদ কক্ষে রাজনৈতিক উত্তাপ ও আদর্শিক বিরোধ ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।
মন্তব্য করুন