

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীবেশে ওঠা ছিনতাইকারীদের ধাক্কায় সড়কে পড়ে কাভার্ড ভ্যানচাপায় মোফাদুল ইসলাম ইয়ামিন (২৪) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার ফতেহপুর উড়ালসেতু এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সীতাকুণ্ড এলাকায় তিনি মারা যান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত ইয়ামিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
হাইওয়ে পুলিশ, চিকিৎসক ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বাসা থেকে বের হয়ে ইয়ামিন তাঁর কর্মস্থল বিস্কুট কারখানায় যান। সেখানে কাজ শেষ করে কলেজের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন এবং চালকের পাশের আসনে বসেন। এ সময় পেছনে যাত্রীবেশে থাকা দুই ছিনতাইকারী তাঁকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাঁকে অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফ্লাইওভারের সড়কে ফেলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান ইয়ামিনকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে করে উড়ালসেতু দিয়ে যাওয়ার পথে আরিফ হোসেন নামে এক প্রবাসী যুবক ইয়ামিনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। আরিফ হোসেন জানান, আহত ইয়ামিনের সাথে কথা বলে তার কর্মস্থলে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে একটি মিনি কাভার্ড ভ্যান এসে তাকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সীতাকুণ্ড এলাকায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের মামি ডলি আক্তার জানান, হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অবস্থায় ইয়ামিন তাদের কাছে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।
ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মিজানুর রহমান জানান, ইয়ামিনের বাঁ হাতের কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত আঘাত ছিল এবং ডান পায়ের কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত হাড় ভেঙে যায়।
মহিপাল হাইওয়ে থানা-পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) আসাদুল ইসলাম জানান, যুবকের মৃত্যুর পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ রাতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ছিনতাইয়ের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যান ও ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি শনাক্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নিহত ইয়ামিন ফেনী পৌরসভার চাঁড়িপুর এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তিনি ফেনী কম্পিউটার ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি 'এসএনবি নাইস ফুড' নামের একটি বিস্কুট কারখানার কম্পিউটার ও সিসিটিভি বিভাগে খণ্ডকালীন চাকরি করতেন।
মন্তব্য করুন