

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মনোনীত করার ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী ২০ আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে।
এর আগে দেশের ইতিহাসে একবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ করা হয় ১৯৯১ সালে। সে সময় বিএনপি সরকার গঠন করলে সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে মনোনীত করা হয়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। এরপরে সকল রাষ্ট্রপতিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
আগামী ২০শে আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ রেখে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এক প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন, বাছাইয়ে একটি চূড়ান্ত হবে। ভোট হবে ২০ আগস্ট সংসদ অধিবেশন কক্ষে। বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে সংসদ সদস্যদের ভোটে।
এই বারের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দুটি মনোনয়ন ফর্ম নিয়েছে সরকারি দল বিএনপি। আজ সকালে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী। তবে দলের পক্ষ থেকে কোনো নাম চূড়ান্ত করা হয়নি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আজ সকালে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী চূড়ান্ত করতে বেইলি রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠকে বসেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক থেকে বেরিয়ে জোটের শরিক এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের সামনে অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীরবিক্রম’ খেতাব পাওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। দুই দফায় খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। তবে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ২০০৬ সালে বিএনপি ছাড়েন অলি। ওই বছর ২৬ অক্টোবর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সঙ্গে মিলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বা এলডিপি। তবে আদর্শগত পার্থক্যের কারণে ২০০৭ সালে বিকল্প ধারা ও এলডিপি আলাদা হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন