

বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গঠিত পরিচালনা পর্ষদের সর্বোচ্চ দুই বছরের মেয়াদের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংকটগ্রস্ত ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনর্গঠিত পর্ষদ প্রয়োজন অনুযায়ী দুই বছরের পরও দায়িত্ব পালন করতে পারবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক-কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ বাতিলের আদেশের মেয়াদসংক্রান্ত আইনের ৪৭(২) ধারার বিধান সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে না।
আইনি পরিবর্তন ও ব্যাখ্যা
বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(২) উপধারায় বলা ছিল—বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে নতুন নিয়োগ দিলে, সেই পর্ষদের বর্ধিত মেয়াদসহ মোট মেয়াদ দুই বছরের বেশি হতে পারবে না। নতুন নির্দেশনার ফলে পর্ষদ বাতিলের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাদের দায়িত্ব দেবে, তাদের সর্বোচ্চ মেয়াদের এই বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।
প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরাতে ও নানামুখী অনিয়ম রোধে দুর্বল হয়ে পড়া প্রায় ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন করে পুনর্গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে পুনর্গঠিত এসব পর্ষদ দুই বছর পর কীভাবে দায়িত্ব পালন করবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল আইনি জটিলতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রজ্ঞাপনের ফলে ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং পর্ষদগুলোর মেয়াদ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর হলো।
মন্তব্য করুন