

গ্যাসসংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন গত ২৬ দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের আরও দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় পুরো ময়মনসিংহ বিভাগজুড়ে তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এ অবস্থার জন্য সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করেছেন ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ এইচ এম রাশেদ।
রোববার (১৬ আগস্ট) এক সাক্ষাৎকারে আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ দাবি করেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তেল, গ্যাস ও খনিজ পদার্থ সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি চুক্তি করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র সেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় দেশে তীব্র গ্যাসসংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে। তিনি জানান, সমস্যার সমাধান হয়ে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো ও শিল্পায়নের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন ধাপে শম্ভুগঞ্জের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পে গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন নির্মাণ করে সঞ্চালন সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। ২০০৭ সালের পর দেশে গ্যাসসংকট বাড়ার পর থেকেই কেন্দ্রটিতে উৎপাদন ব্যাহত হতে থাকে। ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্র হলেও এটি থেকে বছরের পর বছর গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছিল না।
আরপিসিএলের বার্ষিক তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে কেন্দ্রটির প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ থাকলেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা ৪৫ শতাংশে নেমে আসে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাসভিত্তিক উৎপাদন কোনো কোনো মাসে ৪০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। অবিরত গ্যাসসংকটের ধারাবাহিকতায় গত ২৬ দিন ধরে কেন্দ্রটির উৎপাদন সম্পূর্ণ শূন্যে নেমে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় ময়মনসিংহ বিভাগের গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। জেলা শহরে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও স্থানীয় অধিবাসীরা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করেছেন।
ময়মনসিংহ সদরের গোপালনগর গ্রামের ভ্যানচালক নাসির উদ্দিন জানান, দিনে-রাতে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে এবং বিগত ১০-১২ বছরে এমন খারাপ পরিস্থিতি দেখা যায়নি। নগরীর কাঁচিজহুলি এলাকার নারী উদ্যোক্তা শেফালী আক্তার জানান, দিনে ও রাতে চারবার করে মোট ৮ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্যাসসংকটের কারণে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
মহিপাল বা স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের পাশাপাশি আরপিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় চালুর অন্য কোনো উপায় নেই।
তথ্যসূত্র
১। বাংলা ট্রিবিউন, “২৬ দিন ধরে বন্ধ সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, পরিচালক বললেন ‘ড. ইউনূসের দোষ’, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
মন্তব্য করুন