ঢাকা মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

সবাই তো এখন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান!

ড. মেহেদী হাসান
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
সবাই তো এখন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান!

মান্না দে’র একটি গান আছে— “সবাই তো সুখী হতে চায়, কেউ হয়, কেউ হয় না।” হঠাৎ এই গানটির কথা মনে পড়ে গেল। শুনলাম, জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন যে তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। হয়তো তার ভায়রার খালাতো বোনের সম্বন্ধীর মামাতো ভাইয়ের ছেলে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল; কাজেই তিনি অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান!

কিন্তু কেন এই দাবি? তারা তো শুরু করেছিলেন এই বলে যে— “যা করেছি, ভালো করেছি। পাকিস্তান রক্ষা করার জন্য আমাদের পূর্বসূরিরা রুখে দাঁড়িয়েছিল।” এর সাথে মুক্তিযুদ্ধে ‘রিসেট বাটন’ টিপে দিলেন সওদাগর ইউনুস। পতাকা বদলে দেওয়া হবে, জাতীয় সংগীত বদলে দেওয়া হবে— কত কথা! যখন টের পেল বাংলাদেশে এসব করা যাবে না, তখন বলল, “১৯৪৭ সাল থেকে এই পর্যন্ত কেউ যদি আমাদের কাজে মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে আমরা দুঃখিত।”

তিনি চিকিৎসক, বুদ্ধিমান মানুষ এবং সুন্দর বক্তৃতা দেন; তাই হয়তো সবাইকে বোকা মনে করেন। তিনি ভেবেছিলেন এটুকু বলেই ক্ষমা চাওয়া হয়ে গেল। তারা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস জানেন, সাম্প্রতিক সব ইতিহাস জানেন; শুধু একাত্তরের কথা উঠলে বলেন, “আমরা তখন ছোট ছিলাম।” সব তালবাহানা যখন শেষ এবং এখন বোধহয় ক্ষমতার গন্ধও পাচ্ছেন, তাই তিনি এখন বনে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান!

তবে এ কথা হলফ করে বলা যায়, সারা বাংলাদেশে এমন একটি পরিবারও পাওয়া যাবে না যারা বলবে যে ১৯৭১ সালে তারা খুব আনন্দে ছিল, ফুর্তিতে ছিল কিংবা পিকনিক ও যাত্রা-সিনেমা দেখে সময় কাটিয়েছে। এমনকি রাজাকার-আলবদররাও না; কারণ তারাও সব সময় আতঙ্কে থাকত। মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ, তাই কেউই এর বাইরে ছিল না। সেই কারণেই মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

আর সে কারণেই এখন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হওয়ার হিড়িক পড়েছে। এমনকি কুখ্যাত রাজাকারের সন্তানও এখন এই দাবি করে। তবে গত দুই বছরে তারা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধকে যতটা হেয় করেছে, সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে নানা গালগল্প সাজিয়ে তারা পুরো মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করতে চেয়েছিল, কিন্তু সেটি সহজ নয়।

এখনকার প্রজন্ম পাকিস্তানি জেনারেলদের লেখা বই খুঁজে বের করেছে; পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন আর্চার ব্লাডের লেখা ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ এবং সিদ্দিক সালেকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’। কাজেই ইতিহাসকে কিছুদিনের জন্য ঘোলাটে করা সম্ভব হলেও সারা জীবনের জন্য তা পারা যায় না। সেই কারণেই হাজার চেষ্টা করলেও সবাই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হতে পারবে না। আফসোস জামায়াতের আমীর! আপনার কোনো কৌশলই কাজে দিচ্ছে না।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন

৭ জুন ১৯৭১: বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা ও অবরুদ্ধ বাংলায় প্রতিরোধ

৬ জুন ১৯৭১: অসাম্প্রদায়িকতার ডাক, রাজনৈতিক সমাধানের ৪ শর্ত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক, কোন দেশে কত?

বাড়ল বিদ্যুতের দাম, মূল্যস্ফীতির আগুনে নতুন চাপ

নাটোরের ছাতনী গণহত্যা

৪ জুন ১৯৭১: ছাতনীতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, আন্তর্জাতিক চাপ ও রণাঙ্গনে প্রতিরোধ

৩ জুন ১৯৭১: জাতিসংঘে তোলপাড়, বিশ্ব জনমত গঠন ও রণাঙ্গনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত

তোফায়েল আহমেদ / বর্ণাঢ্য রাজনীতির এক ফিনিক্স পাখি

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ আর নেই

১০

১ জুন ১৯৭১: নগরকান্দা গণহত্যা, রণাঙ্গনে বিজয় ও বিশ্ব কূটনীতির নতুন মোড়

১১

৩১ মে ১৯৭১: ‘সমঝোতার সুযোগ নেই’, বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ও রণাঙ্গনের খণ্ডচিত্র

১২

৩০ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, রণাঙ্গনের প্রতিরোধ ও বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গন

১৩

রক্তস্নাত বুরুঙ্গা গণহত্যা (সিলেট)

১৪

২৬ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, প্রতিরোধ ও বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গন

১৫

ভীমনালী গণহত্যা: যে নির্মম ট্র্যাজেডি আজও এক উপেক্ষিত

১৬

২২ মে ১৯৭১: গণহত্যা, প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি

১৭

১৬২ পয়েন্টে ১৬০০ গডফাদার: কার ইশারায় ঢুকছে মাদক?

১৮

হত্যা মামলায় রক্তাক্ত সাংবাদিকতা

১৯

১৮ মে ১৯৭১: পাকিস্তানের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ ও কূটনৈতিক যুদ্ধ

২০