ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

২ আগস্ট ১৯৭১: দেশজুড়ে মুক্তিবাহিনীর সশস্ত্র প্রতিরোধ

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪৭ এএম
১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহন | ছবি: সংগৃহীত
১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহন | ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল, তবে বেদনাদায়ক অধ্যায়। ২ আগস্ট ১৯৭১ ছিল এই যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল দিন। এই দিনে মুক্তিবাহিনীর তীব্র প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সংকট নিয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি ঘটেছিল। নিম্নে ঐতিহাসিক দলিল, আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র এবং সমসাময়িক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২ আগস্ট ১৯৭১-এর ঘটনাবলির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।

দেশজুড়ে মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ

২ আগস্ট ১৯৭১-এ মুক্তিবাহিনী বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এই দিনে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিযান পরিচালিত হয়, যা মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রমাণ বহন করে।

কুমিল্লায় তীব্র আক্রমণ

  • কালামছড়ি চা বাগানে আক্রমণ: লেফটেন্যান্ট হারুনের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর একটি দল কুমিল্লার উত্তরে কালামছড়ি চা বাগানে অবস্থিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের ছোঁড়া গ্রেনেডের বিস্ফোরণে পাকিস্তানি বাহিনীর ১০টি বাঙ্কার ধ্বংস হয় এবং ৫০ জন হানাদার সেনা নিহত হয়। এই অভিযানে মুক্তিবাহিনী দুজন পাকিস্তানি সেনাকে বন্দী করে এবং মেশিনগানসহ ২০,০০০-২৫,০০০ গুলি উদ্ধার করে। তবে এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর দুজন বীর যোদ্ধা শহীদ হন।
  • কুমিল্লা-লাকসাম মহাসড়কে অ্যামবুশ: কুমিল্লার হরিশ্বরদার হাটের কাছে কুমিল্লা-লাকসাম মহাসড়কে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর একটি দলের উপর অ্যামবুশ করে। পাকিস্তানি বাহিনী মর্টার ও কামানের গোলার পাল্টা আক্রমণ চালালে তুমুল যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ২৫ জন হানাদার সেনা নিহত হয়।
  • উত্তর সাব সেক্টরে গেরিলা হামলা: কুমিল্লার উত্তর সাব সেক্টরে আনন্দপুর, শ্রীমন্তপুর, আজানপুর, চারনাল ও হরিমঙ্গল এলাকায় মুক্তিবাহিনী একাধিক গেরিলা হামলা চালায়। এসব হামলায় প্রায় ৫০ জন হানাদার সেনা নিহত হয়। এছাড়া, আজানপুরে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় মুক্তিবাহিনী একটি সেতু ধ্বংস করে, যা পাকিস্তানি বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটায়।

সিলেটে ঝটিকা আক্রমণ

  • সিলেটের তেলিয়াপাড়া থেকে মাধবপুরের দিকে ২৮টি সামরিক যানে করে যাওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর একটি প্লাটুন আমপাড়া চা বাগানের কাছে মুক্তিবাহিনীর ঝটিকা আক্রমণের শিকার হয়। এই হামলায় ৩ জন হানাদার সেনা নিহত হয়। গেরিলা কৌশল ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত পালিয়ে যায়।

কুড়িগ্রামে সংঘর্ষ

  • কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে মুক্তিবাহিনীর একটি দল ভারী অস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ভুরুঙ্গামারী কলেজ ক্যাম্পে হামলা চালায়। তুমুল সংঘর্ষে বহু হানাদার সেনা নিহত হয়। এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলী শহীদ হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী পিছু হটে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।

চট্টগ্রামে রাজাকার হত্যা

  • চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মুক্তিবাহিনী সাতকানিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ও কুখ্যাত রাজাকার আবুল খায়েরকে হত্যা করে। এই ঘটনা স্থানীয় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর কঠোর অবস্থানের প্রমাণ বহন করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিযান

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়পুর থানার কালাছড়া চা বাগানে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। গ্রেনেড বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি বাঙ্কার ধ্বংস হয় এবং কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা দুজন সেনাকে বন্দী করে এবং মেশিনগান ও হাজার হাজার গুলি উদ্ধার করে। এই অভিযানে মুক্তিবাহিনীর দুজন যোদ্ধা শহীদ হন।

স্বাধীনতাবিরোধীদের তৎপরতা

এই দিন রাজশাহীতে জিন্নাত ইসলামিক ইনস্টিটিউট হলে মিয়া মোহাম্মদ কাসেমীর সভাপতিত্বে রাজাকার বাহিনীর প্রথম ব্যাচের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে রাজাকারদের পবিত্র কোরআন শরীফ স্পর্শ করিয়ে শপথ করানো হয়। এই ঘটনা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সংগঠিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ

২ আগস্ট ১৯৭১-এ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থী সংকট নিয়ে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যা বিশ্বব্যাপী এই সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী টাইম এই দিন একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল ‘Pakistan’s Agony’ (পাকিস্তানের যন্ত্রণা)। প্রচ্ছদে একজন অসহায় বাবার ছবি ছাপা হয়, যিনি রুগ্ন শিশু কোলে ভারতে আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে টাইম-এর সংবাদদাতা লেখেন:

“পথ-প্রান্তর, নদী-নালা, খাল-বিল, বন-বাদাড় পেরিয়ে পিপীলিকার মতো হাজারো উদ্বাস্তু বাঙালি ভারতে ঢুকছে। গায়ে ছেঁড়া কাপড়, ঘোমটা মাথায়, ঝাঁকে ঝাঁকে জনস্রোত চলছে ভারতের উদ্দেশে। কারও হাতে টিনের কেটলি, কারও কোলে রুগ্ন শিশু, কারও পিঠে বৃদ্ধ বাবা-মা। মাইলের পর মাইল হাঁটতে থাকা নগ্ন পাগুলো কাদায় ডুবে গেছে। তবুও এ পথ যেন শেষ হওয়ার নয়। চারিদিক নিস্তব্ধ, কেবল থেমে থেমে শিশুর কান্নার শব্দ শোনা যায়। উদ্বাস্তুদের চেহারাই বলে দেয়, তারা কী অমানবিক অবস্থার মধ্য থেকে বেঁচে ফিরেছে। পথে মারা গেলে তাদের বয়ে নিয়ে যাওয়ার কেউ নেই। নিহত হিন্দুদের মরদেহ পথের ধারে কিংবা নদীর পাড়ে গাছের ডাল বা শুকনো লাকড়ি দিয়ে পুড়িয়ে ছাই নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নয়তো শেয়াল, কুকুর বা কাক টানছে। শরণার্থী শিবিরগুলোর অবস্থা আরও অবর্ণনীয়। বেশিরভাগ উদ্বাস্তু অসুস্থ, কারও গা কাঁথায় মোড়ানো, অনেকে কলেরায় আক্রান্ত।”

এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বাংলাদেশের মানবিক সংকটের ভয়াবহতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে।

নিউজ উইকের প্রতিবেদন

নিউজ উইক-এ সাংবাদিক টনি ক্লিফটন লেখেন:

“এখন পৃথিবীতে একজন মাত্র ব্যক্তি আছেন, যিনি পাকিস্তানকে এখনও রক্ষা করতে পারেন, তিনি হলেন শেখ মুজিব। অথচ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বলছেন, মুজিবকে বিচারের মুখোমুখি করানো হবে। মুজিবকে দেশদ্রোহিতার শাস্তি পেতেই হবে। এখন যদি মুজিবের ফাঁসি হয়, তাহলে একই ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলবে পাকিস্তান।”

এই প্রতিবেদন শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের গুরুত্ব এবং পাকিস্তানের সামরিক শাসনের ভুল নীতির সম্ভাব্য পরিণতির উপর আলোকপাত করে।

টাইম-এ মুক্তিবাহিনীর শক্তি

টাইম ম্যাগাজিনের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়:

“মুক্তিবাহিনীর প্রায় ৫০,০০০ সৈনিক এসেছে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও বাঙালি পুলিশদের মধ্য থেকে। এছাড়া বহু ছাত্র গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছে। ঢাকায় যে দুদফা গেরিলা আক্রমণ হয়েছে, তা ছাত্র গেরিলা যোদ্ধারাই চালিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল করে রেখেছে। বহু জায়গায় তারা লাল, সবুজ ও হলুদ রঙে রঞ্জিত বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছে।”

এই প্রতিবেদন মুক্তিবাহিনীর ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং তাদের কৌশলগত সাফল্যের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ভারতে তৎপরতা

ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। ২ আগস্ট ১৯৭১-এ ভারতে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে।

জাতিসংঘ মহাসচিবকে ভারতের চিঠি

জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্টের ২০ জুলাইয়ের স্মারকলিপির জবাবে ভারত ২ আগস্ট একটি চার পৃষ্ঠার চিঠি পাঠায়। এতে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর বলে:

“বাংলাদেশে চলমান সমস্যা নিয়ে আলোচনার চেয়ে রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। শরণার্থীদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার উপযুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা করা জরুরি। বাংলাদেশের মূল সংকট হচ্ছে, সংখ্যালঘু সামরিক শাসক অবাধ নির্বাচনের রায় অস্বীকার করছে। বাংলাভাষী একটি জাতিকে গণহত্যা চালিয়ে নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে। অবাস্তব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সমস্যার সমাধান হবে না, বরং মূল সমস্যাকে আড়াল করা হবে।”

ভারতের লোকসভায় বক্তব্য

  • সুরেন্দ্রনাথ সিং: ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী সুরেন্দ্রনাথ সিং লোকসভায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সীমান্তের ভারতীয় এলাকায় ও বাংলাদেশে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা ভারত অগ্রাহ্য করেছে।
  • সরদার শরণ সিং: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং লোকসভায় ঘোষণা করেন, “মুক্তিবাহিনীর সাফল্যের কারণে যদি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ বাধাতে চান, তাহলে ভারত এক ইঞ্চিও ছাড় দেবে না।”

শরণার্থীদের জন্য হাসপাতাল

পশ্চিম জার্মান রেডক্রস শরণার্থীদের চিকিৎসার জন্য দ্বিতীয় ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল পাঠায়। ১০৫ শয্যার এই হাসপাতাল, যাতে অপারেশন থিয়েটার, ডিসপেনসারি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ছিল, কলকাতায় পৌঁছায়। পশ্চিম জার্মানির অস্থায়ী কনসাল জেনারেল ডা. কে এইচ কুনা এটি ভারতীয় রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করেন।

বাঙালি কূটনীতিকের পদত্যাগ

দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাঙালি কর্মচারী আবদুল মজিদ এই দিন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে পদত্যাগ করেন। তিনি তার নাবালক পুত্র মহিবুল মজিদকে নিয়ে হাইকমিশন ত্যাগ করেন এবং ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন।

বাংলাদেশ তহবিলে অনুদান

দিল্লিতে নব কংগ্রেসের সংসদীয় দলের সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রত্যেক সদস্য বাংলাদেশ তহবিলে ৫০ টাকা করে অনুদান দেবেন।

জনসংঘের সত্যাগ্রহ

বাংলাদেশকে অবিলম্বে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে দিল্লিতে জনসংঘের উদ্যোগে সত্যাগ্রহের দ্বিতীয় দিনে প্রায় ৭০০ সত্যাগ্রহী গ্রেপ্তার হন। তারা সংসদ ভবনের চারপাশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় গ্রেপ্তার হন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্যে উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমেন্সে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার অ্যালেক ডগলাস হোম বলেন:

“পূর্ব পাকিস্তান সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা পাকিস্তান সরকারকেই নিতে হবে। আমরা যত শিগগির সম্ভব একটি সমাধান দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। কেননা, সেখানকার জনগণের অনবরত দেশত্যাগ আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।”

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিবাহিনীর অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তেহরানের কায়হান ইন্টারন্যাশনাল-এর সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন:

“আমরা একমাত্র জাতীয় পরিষদ কর্তৃক বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার আগে কোনো ব্যক্তি বা দল বিশেষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করব না।”

তিনি আরও বলেন, মুক্তিবাহিনী ও আওয়ামী লীগের কারণে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তবে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনীতি শিগগির ঘুরে দাঁড়াবে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পক্ষে তৎপরতা

ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগকারী বাঙালি কূটনীতিক আবুল মাল আবদুল মুহিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন:

“আমরা বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনসমর্থন আদায়ের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে একটি কার্যালয় খোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

২ আগস্ট ১৯৭১ ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, যখন মুক্তিবাহিনী দেশজুড়ে সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বাংলাদেশের মানবিক সংকট ও মুক্তিযুদ্ধের শক্তি তুলে ধরেছিল, এবং ভারত ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন বাড়ছিল। এই দিনের ঘটনাবলি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল, যা পরবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ বিজয়ের মাধ্যমে পরিণতি লাভ করে।

তথ্যসূত্র

  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র (অষ্টম, দশম, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ খণ্ড)
  • টাইম ম্যাগাজিন, ২ আগস্ট ১৯৭১
  • নিউজ উইক, ২ আগস্ট ১৯৭১
  • দৈনিক পাকিস্তান, ৩ আগস্ট ১৯৭১
  • দৈনিক অমৃতবাজার পত্রিকা, ৩ আগস্ট ১৯৭১
  • আনন্দবাজার পত্রিকাযুগান্তর, ভারত, ৩ ও ৪ আগস্ট ১৯৭১
  • বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস, সেক্টর দুই ও সাত
অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২৮ আগস্ট ১৯৭১: মোগরার বিল গণহত্যা (মোহনপুর, রাজশাহী)

২৮ আগস্ট ১৯৭১: পাকুড়িয়া গণহত্যা (মান্দা, নওগাঁ)

২৮ আগস্ট ১৯৭১: দিরাই ও শাল্লা এলাকা হানাদারমুক্ত হয়

২৭ আগস্ট ১৯৭১: দেয়াড়া গণহত্যা (খুলনা)

২৭ আগস্ট ১৯৭১: কচুয়া বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

২৭ আগস্ট ১৯৭১: লাতিন আমেরিকায় পাকিস্তানি গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রস্তাব

২৬ আগস্ট ১৯৭১: নারী নির্যাতনে ইয়াহিয়ার সৈন্যরা মধ্যযুগের বর্বরতাকে হার মানিয়েছে

২৫ আগস্ট ১৯৭১: সিলেটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অমানুষিক অত্যাচার

২৫ আগস্ট ১৯৭১: মানসা গণহত্যা ও বধ্যভূমি (বাগেরহাট)

২৭ আগস্ট ১৯৭১: লন্ডনে প্রবাসী সরকারের কূটনীতিক মিশন উদ্বোধন

১০

২৫ আগস্ট ১৯৭১: কানলা গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১১

২৬ আগস্ট ১৯৭১: পূর্বপাড়া ওয়ারলেস কেন্দ্র গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১২

২৬ আগস্ট ১৯৭১: পশ্চিমগ্রাম গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১৩

২৬ আগস্ট ১৯৭১: দাসপাড়া গণহত্যা (ইটনা, কিশোরগঞ্জ)

১৪

২৬ আগস্ট ১৯৭১: কুণ্ডুবাড়ি হত্যাকাণ্ড

১৫

২৬ আগস্ট ১৯৭১: তীব্র আক্রমণের মুখে হানাদার বাহিনী কানসাট ছেড়ে পালায়

১৬

২৫ আগস্ট ১৯৭১: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এক ঘটনাবহুল দিন

১৭

২৪ আগস্ট ১৯৭১: দেশজুড়ে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ যুদ্ধ

১৮

২৩ আগস্ট ১৯৭১: পাকিস্তানি বাহিনীর জগন্নাথদিঘি ঘাঁটিতে আক্রমণ মুক্তিবাহিনীর

১৯

২১ আগস্ট ১৯৭১: পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ ইরাকে নিযুক্ত বাঙালি রাষ্ট্রদূতের

২০