

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় ৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের বর্বরোচিত মামলায় আসামি মো. শাহিনকে (৫৩) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। খাগড়াছড়িতে নবগঠিত শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর এটিই প্রথম মামলার রায়, যা অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘোষণা করা হলো।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) খাগড়াছড়ি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শায়েলা শারমিন জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এই দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. শাহিন রামগড় উপজেলার ২ নম্বর পাতাছড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের লেদু মিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
রেকর্ড সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া:
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটিই প্রথম এবং ঐতিহাসিক রায়। ঘটনার মাত্র ১১ মাস ১৪ দিনের মাথায় এই মামলার সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আজ চূড়ান্ত রায় দেওয়া হলো। বিচার চলাকালীন আদালত রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জন এবং আসামিপক্ষে ৩ জনসহ মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা গ্রহণ করেন। দীর্ঘ শুনানি ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ দেন।
রায়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সৃজনী ত্রিপুরা। রায়-পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি ‘প্রিয়ভূমি’কে বলেন:
"ধর্ষণের মতো জঘন্য ও সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল এত দ্রুততম সময়ে রায় দিয়ে একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এই রায়ের ফলে খাগড়াছড়িসহ দেশজুড়ে অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের মনে আইনের প্রতি আস্থা বাড়বে। ভুক্তভোগী অবুঝ শিশুটির পরিবার অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেয়েছে।"
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের নিয়োজিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেদারুল ইসলাম রায়ের পর গণমাধ্যমকে জানান, তাঁরা এই রায়ে ক্ষুব্ধ এবং ন্যায়বিচারের আশায় খুব দ্রুত উচ্চ আদালতে (হাইকোর্ট) আপিল দায়ের করবেন।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এই দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাহাড় তথা পুরো দেশে শিশু সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত শাহিনকে কড়া নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মন্তব্য করুন