ঢাকা বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
মুক্ত মনমুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

প্রকৃত পরীক্ষা আসলে খারাপ সময়েই হয়

প্রকৃত পরীক্ষা আসলে খারাপ সময়েই হয়

অসংখ্য সাংবাদিক, আইনজীবী এবং কয়েকজন বিচারক কারাগারে আটক রয়েছেন অন্যায়ভাবে। লেখক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মীরাও আছেন অনেকে। ওদেরকে যে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে এটা স্পষ্ট—কেউ অস্বীকার করে না। উদাহরণ দিই একটা। ধরেন, বিচারপতি খায়রুল হক সাহেবের কথা। তাঁকে আটক করা হলো একটা হত্যাচেষ্টা মামলায়—যাত্রাবাড়ীতে এক যুবক আহত হয়েছিল ২৪ সনের জুলাইতে, সেই হত্যাচেষ্টা মামলায়। আপনি আমি সকলেই জানি যে তিনি এই ঘটনায় জড়িত নন, তথাপি তাঁকে এই মামলায় আটক রাখা হয়েছে।

কেউ বলতে পারেন যে খায়রুল হক সাহেব মানুষ ভালো না বা জজ ভালো না। আপনি তার কয়েকটা রায় বের করে দেখাতে পারেন যে তিনি ভালো রায় দেননি। হতে পারে। সেগুলি যদি অপরাধ হয় তাহলে সেটার জন্যে মামলা করেন। অথবা বলতে পারেন যে তিনি বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে কোনো মামলায় পক্ষপাতদুষ্ট রায় দিয়েছেন। সেটাও হতে পারে। তাহলে সেইটার জন্যই মামলা করেন। সেগুলি তো করেননি। যে মামলাটায় তাঁকে আটকানো হলো সেটা তো স্পষ্টতই মিথ্যা। এরকম ঘটনা শুধু খায়রুল হক সাহেব নন, আরও অনেকের সাথেই হয়েছে। এগুলি অন্যায়।

এইসব অন্যায় নিয়ে আমরা অনেকেই কথা বলেছি। এমনকি মব সন্ত্রাসের সেইসব ভয়াবহ দিনগুলিতেও বলেছি। কেন বলেছি? অন্যায়কে অন্যায় বলতে হয়। ফেসবুক একটা খুলেছি, দেশে এইরকম একটা অন্যায় হচ্ছে তখন যদি আমি ওয়াজেদ আলী শাহের ঠুমরী আর বাবা ফরিদের সুফি গান নিয়ে লিখতে থাকি অথবা ঢেঁড়সের পুষ্টিগুণ বা গন্ধরাজ চাষের কথা আলোচনা করতে থাকি—সেটা তো হয় না। এইরকম প্রতিবাদ করা আমার আপনার পেশা নয়, তথাপি আমরা করি—আমরা আমাদের চেতনা থেকে করি, আমার দেশে অন্যায় হবে, আমি বলবো না তো কে বলবে?

কিছু কিছু সংস্থা আছে যাদের কাজই হচ্ছে এইসব ক্ষেত্রে কথা বলা, প্রটেস্ট করা, মানুষকে জানানো, জনমত তৈরি করা। কিছু ব্যক্তি আছেন, যাদের পেশাই হচ্ছে এইরকম ঘটনায় যাদের সাথে অন্যায় হচ্ছে ওদের পাশে দাঁড়ানো, বা এইসব ঘটনায় যে সুশাসনের ব্যত্যয় হচ্ছে সেই বিষয়টা সর্বসমক্ষে তুলে ধরা, সচেতনতা তৈরি করা ইত্যাদি। এইসব সংস্থা এবং ব্যক্তি এইসব কাজের জন্যে পয়সা পায়, দেশে-বিদেশে নানাজনের কাছ থেকে টাকা নেয়। আজ আমি কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির নাম বলছি না। কিন্তু এই সংস্থা ও ব্যক্তিরা এইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে টু শব্দ করেনি।

ব্যতিক্রম আছে। কয়েকটা সংস্থা নিষ্ঠার সাথে ওদের দায়িত্ব পালন করেছে। কয়েকজন ব্যক্তি আছেন যারা পক্ষ-বিপক্ষ নির্বিশেষে ন্যায়ের কথা বলেছেন। কিন্তু যেসব সংস্থা এবং যেসব ব্যক্তি এইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও কিছু বলছেন না, ওদেরকে চিনে রাখুন। এরপর যখন কোনোদিন ওরা আপনার সামনে সুশাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ইত্যাদি নিয়ে মুখ খুলে কিছু বলতে আসবে, মুখের উপর বলে দিবেন, যা ব্যাটা ভাগ, তুই তো দুই নম্বর। প্রকৃত পরীক্ষা আসলে খারাপ সময়েই হয়, স্বাভাবিক সময়ে তো সকলেই বিপ্লবী আরকি।

চেনাজানা মানবাধিকার কর্মী ও সুশাসনকর্মীরা, আপনি নিজেই ঠিক করুন, এইসব বিষয়ে আপনি কি সৎ? নাকি দুই নম্বর?

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১২ এপ্রিল ১৯৭১: সরকারের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব ও বালারখাইলের রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি

রক্ষাকালী মন্দির গণহত্যা: পাবনার এক রক্তাক্ত অধ্যায়

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাজউদ্দীন আহমদের প্রথম ভাষণ

১১ এপ্রিল ১৯৭১: তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ ও সংগঠিত প্রতিরোধের সূচনা

১০ এপ্রিল ১৯৭১: বাংলাদেশের প্রথম সরকার ও স্বাধীনতার সনদ

১০ এপ্রিল ১৯৭১: যখন যুদ্ধের অন্ধকারে জন্ম নেয় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আইনি সূর্য

০৫ এপ্রিল ১৯৭১: বহুমুখী যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

৩১ মার্চ ১৯৭১: নাথপাড়ার রক্তগঙ্গা ও বিশ্ববিবেকের গর্জন

৩০ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

ইতিহাসের অবিনশ্বর নক্ষত্র: শহীদ শাফী ইমাম রুমী

১০

২৯ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন ও আত্মাহুতির এক নৃশংস অধ্যায়

১১

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা,আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশ

১২

২৮ মার্চ ১৯৭১: ধ্বংসযজ্ঞের ছাপ আর বাঙালির সুসংগঠিত প্রতিরোধ

১৩

২৭ মার্চ ১৯৭১: বিশ্ব জানল, বাংলাদেশ স্বাধীন

১৪

২৬ মার্চ ১৯৭১: একটি জাতির রক্তক্ষয়ী সূর্যোদয় ও স্বাধীনতার ঘোষণা

১৫

গণহত্যার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ / ২৫শে মার্চের কালরাত্রি স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’

১৬

২৫ মার্চ, ১৯৭১: ইতিহাসের কলঙ্কিত কালরাত ও বিভীষিকাময় গণহত্যা

১৭

২৪ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের আগুন আর চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিন

১৮

২৫ মার্চের গণহত্যা স্মরণে ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ‘আলোর মিছিল’

১৯

২৫ মার্চ ১৯৭১: গণহত্যার কালরাত্রি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লড়াই

২০