ঢাকা রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

প্রকৃত পরীক্ষা আসলে খারাপ সময়েই হয়

প্রকৃত পরীক্ষা আসলে খারাপ সময়েই হয়

অসংখ্য সাংবাদিক, আইনজীবী এবং কয়েকজন বিচারক কারাগারে আটক রয়েছেন অন্যায়ভাবে। লেখক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মীরাও আছেন অনেকে। ওদেরকে যে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে এটা স্পষ্ট—কেউ অস্বীকার করে না। উদাহরণ দিই একটা। ধরেন, বিচারপতি খায়রুল হক সাহেবের কথা। তাঁকে আটক করা হলো একটা হত্যাচেষ্টা মামলায়—যাত্রাবাড়ীতে এক যুবক আহত হয়েছিল ২৪ সনের জুলাইতে, সেই হত্যাচেষ্টা মামলায়। আপনি আমি সকলেই জানি যে তিনি এই ঘটনায় জড়িত নন, তথাপি তাঁকে এই মামলায় আটক রাখা হয়েছে।

কেউ বলতে পারেন যে খায়রুল হক সাহেব মানুষ ভালো না বা জজ ভালো না। আপনি তার কয়েকটা রায় বের করে দেখাতে পারেন যে তিনি ভালো রায় দেননি। হতে পারে। সেগুলি যদি অপরাধ হয় তাহলে সেটার জন্যে মামলা করেন। অথবা বলতে পারেন যে তিনি বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে কোনো মামলায় পক্ষপাতদুষ্ট রায় দিয়েছেন। সেটাও হতে পারে। তাহলে সেইটার জন্যই মামলা করেন। সেগুলি তো করেননি। যে মামলাটায় তাঁকে আটকানো হলো সেটা তো স্পষ্টতই মিথ্যা। এরকম ঘটনা শুধু খায়রুল হক সাহেব নন, আরও অনেকের সাথেই হয়েছে। এগুলি অন্যায়।

এইসব অন্যায় নিয়ে আমরা অনেকেই কথা বলেছি। এমনকি মব সন্ত্রাসের সেইসব ভয়াবহ দিনগুলিতেও বলেছি। কেন বলেছি? অন্যায়কে অন্যায় বলতে হয়। ফেসবুক একটা খুলেছি, দেশে এইরকম একটা অন্যায় হচ্ছে তখন যদি আমি ওয়াজেদ আলী শাহের ঠুমরী আর বাবা ফরিদের সুফি গান নিয়ে লিখতে থাকি অথবা ঢেঁড়সের পুষ্টিগুণ বা গন্ধরাজ চাষের কথা আলোচনা করতে থাকি—সেটা তো হয় না। এইরকম প্রতিবাদ করা আমার আপনার পেশা নয়, তথাপি আমরা করি—আমরা আমাদের চেতনা থেকে করি, আমার দেশে অন্যায় হবে, আমি বলবো না তো কে বলবে?

কিছু কিছু সংস্থা আছে যাদের কাজই হচ্ছে এইসব ক্ষেত্রে কথা বলা, প্রটেস্ট করা, মানুষকে জানানো, জনমত তৈরি করা। কিছু ব্যক্তি আছেন, যাদের পেশাই হচ্ছে এইরকম ঘটনায় যাদের সাথে অন্যায় হচ্ছে ওদের পাশে দাঁড়ানো, বা এইসব ঘটনায় যে সুশাসনের ব্যত্যয় হচ্ছে সেই বিষয়টা সর্বসমক্ষে তুলে ধরা, সচেতনতা তৈরি করা ইত্যাদি। এইসব সংস্থা এবং ব্যক্তি এইসব কাজের জন্যে পয়সা পায়, দেশে-বিদেশে নানাজনের কাছ থেকে টাকা নেয়। আজ আমি কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির নাম বলছি না। কিন্তু এই সংস্থা ও ব্যক্তিরা এইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে টু শব্দ করেনি।

ব্যতিক্রম আছে। কয়েকটা সংস্থা নিষ্ঠার সাথে ওদের দায়িত্ব পালন করেছে। কয়েকজন ব্যক্তি আছেন যারা পক্ষ-বিপক্ষ নির্বিশেষে ন্যায়ের কথা বলেছেন। কিন্তু যেসব সংস্থা এবং যেসব ব্যক্তি এইসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও কিছু বলছেন না, ওদেরকে চিনে রাখুন। এরপর যখন কোনোদিন ওরা আপনার সামনে সুশাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ইত্যাদি নিয়ে মুখ খুলে কিছু বলতে আসবে, মুখের উপর বলে দিবেন, যা ব্যাটা ভাগ, তুই তো দুই নম্বর। প্রকৃত পরীক্ষা আসলে খারাপ সময়েই হয়, স্বাভাবিক সময়ে তো সকলেই বিপ্লবী আরকি।

চেনাজানা মানবাধিকার কর্মী ও সুশাসনকর্মীরা, আপনি নিজেই ঠিক করুন, এইসব বিষয়ে আপনি কি সৎ? নাকি দুই নম্বর?

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩১ মে ১৯৭১: ‘সমঝোতার সুযোগ নেই’, বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ও রণাঙ্গনের খণ্ডচিত্র

৩০ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, রণাঙ্গনের প্রতিরোধ ও বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গন

রক্তস্নাত বুরুঙ্গা গণহত্যা (সিলেট)

২৬ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, প্রতিরোধ ও বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গন

ভীমনালী গণহত্যা: যে নির্মম ট্র্যাজেডি আজও এক উপেক্ষিত

২২ মে ১৯৭১: গণহত্যা, প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি

১৬২ পয়েন্টে ১৬০০ গডফাদার: কার ইশারায় ঢুকছে মাদক?

হত্যা মামলায় রক্তাক্ত সাংবাদিকতা

১৮ মে ১৯৭১: পাকিস্তানের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ ও কূটনৈতিক যুদ্ধ

জাতীয় জাদুঘর থেকে বঙ্গবন্ধু কর্নার উধাও: ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা

১০

হামে শিশু মৃত্যু ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন, ১০ দফা দাবি

১১

কক্সবাজারে হামের ভয়াবহ রূপ / ২০ বেডে ৮৭ শিশু

১২

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ / গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না

১৩

৩ বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা: সিলেটে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা

১৪

দ্য প্রাইম মিনিস্টার-এ ফ্যামিলি ম্যান!

১৫

পেস ত্রয়ীকে বিশ্রাম দিয়ে তরুণ দল পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

১৬

লক্ষ্য বড় চুক্তি / বাণিজ্য যুদ্ধ ও ইরান উত্তাপের মধ্যেই বেইজিং যাচ্ছেন ট্রাম্প

১৭

দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ / মৃত্যু ছাড়াল ৪০০, একদিনে ঝরল ১১ প্রাণ

১৮

১১ মে ১৯৭১: আর্তমানবতার পক্ষে কেনেডির গর্জন ও বিশ্ববিবেকের জাগরণ

১৯

মঙ্গল শোভাযাত্রা—বিশ্বমঞ্চে বাঙালির অসাম্প্রদায়িকতার জয়গান

২০