১৯৭১ সালের ২৫ আগস্ট সিলেট জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অত্যাচার চরমে পৌঁছায়। এই নৃশংসতার ফলে হাজার হাজার মানুষ শরণার্থী হয়ে ভারতের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে গ্রামে গ্রামে হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।
সিলেটের আজমীরিগঞ্জ, নবীগঞ্জ, জলসুকা, বিরাট, মাকালকান্দি সহ মোট ১২টি গ্রামে পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এই গ্রামগুলোতে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে বাড়িঘর ও সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়, যার ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলার ফলে গত তিন-চার দিনে প্রায় ৫০,০০০ শরণার্থী ভারতের বালাট শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিদিন আরও হাজার হাজার শরণার্থী এই শিবিরে আগমন অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বাঙালি বিদ্বেষ এতটাই তীব্র ছিল যে, তারা কেবল সাধারণ মানুষের ওপরই নয়, উচ্চপদস্থ বাঙালি কর্মকর্তাদের ওপরও হামলা চালায়। গত সপ্তাহে উত্তর সিলেটে চাকরিরত সহকারী পুলিশ সুপার মি. মুনসিফ এবং ফ্লাড কন্ট্রোলের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ারকে প্রকাশ্যে গ্রামের মধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এই অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড সিলেটের গ্রামাঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। এই ঘটনাগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি জনগণের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর চরম দমন-পীড়নের চিত্র তুলে ধরে।
সূত্র: দৃষ্টিপাত, ২৫ আগস্ট ১৯৭১
মন্তব্য করুন