২৭ আগস্ট ১৯৭১ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে লাতিন আমেরিকান পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হয়। এই অধিবেশনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবের সারাংশ নিম্নরূপ:
জাতিসংঘের ঘোষণার প্রতি শ্রদ্ধা: সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অন জেনোসাইডের চার্টার বিবেচনায় নিয়ে, এই পার্লামেন্ট মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
মানব সংহতির প্রতি বিশ্বাস: বর্ণ, ধর্ম, ভাষা, ভূগোল বা আদর্শ কখনোই মানব সংহতির পথে বাধা হতে পারে না। এই নীতির প্রতি সচেতন থেকে পার্লামেন্ট তার অবস্থান স্পষ্ট করে।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতা: পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ববঙ্গে মানবাধিকারকে বর্বরোচিতভাবে দমন করছে। তারা বৃহৎ পরিসরে গণহত্যা চালাচ্ছে এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করছে।
শরণার্থী সংকট: এই নৃশংসতার ফলে ৭৫ লক্ষ মানুষ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে, যা একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি করছে।
প্রতিবাদ ও আহ্বান: লাতিন আমেরিকান পার্লামেন্ট এই গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানায়। পাকিস্তান সরকারকে এই নৃশংস কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাকিস্তানের ওপর প্রভাব বিস্তার করে একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়, যাতে পূর্ববঙ্গের মানুষ এই দুর্দশা থেকে মুক্তি পায়।
উল্লেখ্য, পার্লামেন্ট তাদের প্রস্তাবে কখনোই "পূর্ব পাকিস্তান" শব্দটি ব্যবহার করেনি। তারা "পূর্ববঙ্গ" নামটি ব্যবহার করেছে, যা এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও আদি নাম।
সূত্র:
Bangladesh Documents
একাত্তরের বন্ধু যাঁরা, মুনতাসীর মামুন
মন্তব্য করুন