ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ: অন্তরালের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

প্রিয়ভূমি প্রতিবেদক
১৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম
০১ মে ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
১৯৭১ সালের ১৭ ই এপ্রিল অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। ইতিহাসের পাতায় এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা মহকুমার (বর্তমানে মেহেরপুর জেলা) বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্থাপিত হয় বাংলাদেশ সরকারের প্রথম অস্থায়ী সদরদপ্তর—মুজিবনগর। এই দিনই শপথ গ্রহণ করেন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। কিন্তু এই মহান আয়োজনের পেছনে ছিল বিপুল অজানা গল্প, গোপন প্রস্তুতি ও ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা।

পরিকল্পনার সূচনা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি ছিল একটি রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আন্তর্জাতিক মহলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে এটি একটি বড় কৌশল ছিল। পাকিস্তান সরকার যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে রেখেছিল, সেখানে বিশ্বের কাছে একটি সাংবিধানিক ও সংগঠিত সরকারের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার জন্য এ আয়োজন ছিল জরুরি।

বৈদ্যনাথতলা নির্বাচনের পেছনের কারণ স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রেও নিতে হয়েছিল অসাধারণ সতর্কতা। বৈদ্যনাথতলা ছিল সীমান্তের নিকটে এবং ভারতীয় বাহিনীর সহায়তায় সুরক্ষিত। গোপনীয়তা বজায় রাখতে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল নিরাপত্তা বলয়ে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেকেন্ড মাউন্টেন ডিভিশনের সহায়তায় প্রস্তুত করা হয়েছিল অনুষ্ঠানস্থল।

শপথ গ্রহণের মুহূর্ত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টায়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ। এই সরকারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমদ এবং এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান।

বিশ্ব মিডিয়ার উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি আদায়ের অন্যতম একটি চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। বিবিসি, রয়টার্স, টাইমস, হিন্দুস্থান টাইমসসহ আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় বহু সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সরাসরি প্রচার না হলেও এর প্রতিবেদন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।

অন্তরালের রুদ্ধশ্বাস প্রস্তুতি অনুষ্ঠানের মাত্র একদিন আগেই এলাকা সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ করা হয়। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বিকল্প স্থান ও গেটওয়ে। ভারতীয় আর্মি এবং মিত্রবাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

ইতিহাসে এর গুরুত্ব এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, বঙ্গবন্ধু অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর আদর্শ এবং নেতৃত্বে একটি সরকার সংগঠিত হয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত বিজয়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ জুন ১৯৭১: বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পক্ষে সংহতি

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন

৭ জুন ১৯৭১: বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক তৎপরতা ও অবরুদ্ধ বাংলায় প্রতিরোধ

৬ জুন ১৯৭১: অসাম্প্রদায়িকতার ডাক, রাজনৈতিক সমাধানের ৪ শর্ত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক, কোন দেশে কত?

বাড়ল বিদ্যুতের দাম, মূল্যস্ফীতির আগুনে নতুন চাপ

নাটোরের ছাতনী গণহত্যা

৪ জুন ১৯৭১: ছাতনীতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, আন্তর্জাতিক চাপ ও রণাঙ্গনে প্রতিরোধ

৩ জুন ১৯৭১: জাতিসংঘে তোলপাড়, বিশ্ব জনমত গঠন ও রণাঙ্গনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত

তোফায়েল আহমেদ / বর্ণাঢ্য রাজনীতির এক ফিনিক্স পাখি

১০

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ আর নেই

১১

১ জুন ১৯৭১: নগরকান্দা গণহত্যা, রণাঙ্গনে বিজয় ও বিশ্ব কূটনীতির নতুন মোড়

১২

৩১ মে ১৯৭১: ‘সমঝোতার সুযোগ নেই’, বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ও রণাঙ্গনের খণ্ডচিত্র

১৩

৩০ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, রণাঙ্গনের প্রতিরোধ ও বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গন

১৪

রক্তস্নাত বুরুঙ্গা গণহত্যা (সিলেট)

১৫

২৬ মে ১৯৭১: রক্তক্ষয়ী গণহত্যা, প্রতিরোধ ও বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গন

১৬

ভীমনালী গণহত্যা: যে নির্মম ট্র্যাজেডি আজও এক উপেক্ষিত

১৭

২২ মে ১৯৭১: গণহত্যা, প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি

১৮

১৬২ পয়েন্টে ১৬০০ গডফাদার: কার ইশারায় ঢুকছে মাদক?

১৯

হত্যা মামলায় রক্তাক্ত সাংবাদিকতা

২০