ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
মুক্ত ভাবনামুক্ত চিন্তামুক্তি গাথা

বাজেটে স্বস্তি নেই মধ্যবিত্তের

প্রিয়ভূমি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৫, ০৪:২৪ পিএম
মধ্যবিত্ত

শিশুর আবদার মেটাতে খেলনা কিনে দিতে গুনতে হবে বাড়তি অর্থ। নগর জীবনের অনুষঙ্গ ফ্রিজ, টিভি, এসি, ব্লেন্ডার ও জুসারের মতো পণ্য হবে আরো ব্যয়বহুল। এমনকি ঘরে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি ব্যবহার, মশা-মাছি-তেলাপোকার উপদ্রব থেকে রেহাই পেতেও ব্যয় বাড়বে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ সামাল দিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন বাজেটেও তাদের জন্য নেই স্বস্তির খবর।

আগামী ২ জুন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যে বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন তাতে উল্টো কর কাঠামো ও বাড়তি রাজস্ব আদায়ের পদক্ষেপ মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে আয় না বাড়লেও নানাভাবে ব্যয় কাটছাঁট করে চলা মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কারা মধ্যবিত্ত, কেন তারা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যারা নির্ধারিত আয়ের মানুষ, মাসিক বেতনের ভিত্তিতে কাজ করেন, যাঁদের বেতনের বাইরে বাড়তি আয় নেই, উচ্চবিত্ত বাদ দিয়ে দারিদ্র্যসীমার ওপরে যাদের বসবাস, তাঁরাই মধ্যবিত্ত। দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে থেকে বড় ভূমিকা রাখেন তারাই।

দেশের সবচেয়ে সচেতন শ্রেণি হলো মধ্যবিত্ত। এই শ্রেণিটি অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ধরনের অবদান রাখে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রতিবছর বাজেটে প্রাপ্য গুরুত্ব তারা পান না। মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রধান সমস্যা হলো, তাঁদের আয় বাড়ে সীমিত হারে, অথচ ব্যয় বেড়ে চলে লাগামহীনভাবে।

নিম্ন আয়ের মানুষ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহায়তা পেলেও মধ্যবিত্ত তো তা পাচ্ছেন না। কোথাও গিয়ে হাত পাতাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের হার কত এবং কারা মধ্যবিত্ত, তা নিয়ে বছর দুয়েক আগে একটি গবেষণা করেছিলেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেন। তাঁর গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে এখন মধ্যবিত্তের হার মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ। দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ধরলে এর মধ্যে ২০ শতাংশ বা চার কোটি মানুষ মধ্যবিত্তের কাতারে।

বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের হার যেভাবে বাড়ছে, এটি অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালে এ হার ২৫ শতাংশে আর ২০৩০ সালে ৩৩ শতাংশে উন্নীত হবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশে এখন মধ্যবিত্তের সংখ্যা দেড় কোটি। প্রতিবছর ২০ লাখ করে মানুষ মধ্যবিত্তের কাতারে যুক্ত হচ্ছে। গবেষণাটি তারা করেছে বাংলাদেশিদের ভোগ্যপণ্য কেনার সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে।

করমুক্ত আয়সীমার সঙ্গে বাড়ছে করহার

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর বাড়তি চাপ আসছে। আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ালেও করের ন্যূনতম স্ল্যাবের করহার ৫ শতাংশ তুলে দিয়ে ১০ শতাংশ থেকে নতুন স্তর নির্ধারণ করা হচ্ছে। এতে আগে যারা ৫ শতাংশ হারে কর দিতেন, তাদের আগামী অর্থবছর থেকে ১০ শতাংশ দিতে হবে। অর্থাৎ মধ্যবিত্তের করের বোঝা বাড়বে।

বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা। এরপরের এক লাখ টাকা আয়ের জন্য কর দিতে হয় ৫ শতাংশ হারে; অর্থাৎ সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর করের হার রয়েছে ৫ শতাংশ।

নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী, তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করমুক্ত আয়সীমা করে পরের ধাপেই কর হার করা হচ্ছে ১০ শতাংশ করে। এতে এখন যে ব্যক্তির আয় বছরে সাড়ে চার লাখ টাকা, তাঁকে ৭৫ হাজার টাকার জন্য কর দিতে হবে ১০ শতাংশ। এতে মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়বে।

সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করা হয়। ২০২০-২১ সালে করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুই লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে আড়াই লাখ টাকা করা হয়।

এলইডি বাতি, পোকা দমন, খেলনায়ও খরচ বাড়তে পারে

বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এলইডি বাতি ব্যবহারে মধ্যবিত্তকে গুনতে হবে বাড়তি টাকা। কারণ এই বাতি তৈরির উপকরণে বসানো হয়েছে ১০ শতাংশ বাড়তি কাস্টমস শুল্ক। খেলনা আমদানিতে এখন ন্যূনতম মূল্য হিসেবে প্রতি কেজিতে ০.৫০ ডলার থেকে বাড়ানোর প্রস্তাবে শিশুকে খেলনা কিনে দিতেও লাগবে বাড়তি অর্থ। মশা-মাছি-তেলাপোকার উপদ্রব থেকে বাঁচাতে হলেও গুনতে হবে অতিরিক্ত টাকা। কীটপতঙ্গ মারার উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস শুল্ক ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

গৃহস্থালি পণ্যের বাড়ছে ভ্যাটের চাপ

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিকস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, টয়লেট্রিজ, এলপিজি সিলিন্ডার, লিফট, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ও কম্প্রেসর উৎপাদনকারী শিল্পে বড় অঙ্কের কর বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ খাত ও রড তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ওপরও কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে। এই খাতের বেশ কিছু দরকারি পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব থাকছে। যেমন—সিমেন্ট, রড, বার, অ্যাঙ্গেল, টাইলস, স্ক্রু, নাট-বোল্ট ও নির্মাণসামগ্রীর দাম আকাশ ছুঁতে পারে। এতে মধ্যবিত্তকে জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে শেষ জীবনে বাড়ি বানানোর স্বপ্নও ফিকে হবে।

নগর জীবনে মধ্যবিত্তের জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রির ওপর ভ্যাট বাড়ছে। রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এয়ারকন্ডিশনার ও কম্প্রেসরের ভ্যাট এক লাফে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। আগে ৭.৫০ শতাংশ থাকলেও এখন ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। মোবাইল ফোনের বিভিন্ন উপকরণের ক্ষেত্রেও ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। গৃহস্থালি পণ্য যেমন : ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, আয়রন, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার এবং প্রেসার কুকারে এ পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি ছিল। এ জন্য দামও সহনীয় ছিল। তবে আসছে বাজেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট বসানো হতে পারে। রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারের ভ্যাট হার বেড়ে ১০ শতাংশ হচ্ছে।

কিছু সুখবর

তবে কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তিও আছে, যেমন আবগারি শুল্কের সীমা বাড়িয়ে এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে, ফলে সাধারণ আমানতকারীরা কিছুটা সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম আরো সহজ করতে যাচ্ছে সরকার। এতে স্বস্তি পাবে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্যের আমদানিতে স্থানীয় ঋণপত্রের (এলসি) কমিশনের ওপর উৎস কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আওতায় পড়বে চাল, ডাল, ধান, গম, পেঁয়াজ, আলু, চিনি, ভোজ্যতেলসহ ২৫টির বেশি খাদ্যপণ্য। এ ছাড়া কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ, ফলমূল আমদানির ওপর কর হ্রাসের মাধ্যমে ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কিছু পণ্যের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব

বাজেটে কিছু পণ্যের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব থাকছে। চিনির প্রতি মেট্রিক টনে শুল্কায়ন মূল্য ৫০০ টাকা কমতে পারে। কমতে পারে বাটার, লবণ, কম ফ্যাটযুক্ত সয়াবিন তেল, বিদেশি জুস, জ্বালানি তেল, ইনসুলিন এবং এর প্যাকিং উপকরণ, পশুখাদ্যের দাম। এ ছাড়া চুনাপাথর, দেশীয় কাগজ, কালি, শিরিশ কাগজ, নিউজপ্রিন্ট, ১৬ থেকে ৪০ আসনের বাস, ১০ থেকে ১৫ আসনের মাইক্রোবাস, ইস্পাতশিল্পের কাঁচামাল, ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্ট পেপার, আর্ট কার্ড ও ক্রাউফট লাইনার পেপার, পরিবেশবান্ধব ফ্রুট ব্যাগ, ব্রেক প্যাড ও ক্রিকেট ব্যাটের শুল্ক কমিয়ে দাম কমানোর পরিকল্পনা সরকারের। তবে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব থাকলেও বাস্তবে এসবের দাম খুব একটা কমতে দেখা যায় না।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিসর বাড়ছে

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নতুন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে গত সরকারের প্রবর্তিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে আরো ছয় লাখ ২৪ হাজার সুবিধাভোগী। একই সঙ্গে আসন্ন বাজেটে (২০২৫-২৬) সব ধরনের ভাতা সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বেড়ে ভাতার অঙ্ক (৬৫০-৯০০) টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে উল্লিখিত এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এসব প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, আগামী বাজেটে ১২ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে মোট বরাদ্দ থাকছে ১৯ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ আছে ১৭ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে নতুন অর্থবছরে এক হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, আসন্ন বাজেটে নতুন করে ছয় লাখ ২৪ হাজার জনকে বিভিন্ন ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতার আওতায় নতুন করে ১০ লাখ ২৬ হাজার সুবিধাভোগীকে যুক্ত করা হয়। ওই হিসাবে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বেষ্টনীতে নতুন সুবিধাভোগী মানুষের সংখ্যা কমছে।

যা বলছেন অর্থনীতিবিদরা

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। তাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ নেই। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মূল ভরসা চাকরি। কিন্তু সেখানে আয় বাড়ছে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দৈনন্দিন খরচের চাপে তারা জীবনযাত্রার মান বাড়াতে পারছে না। আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতির অভিঘাত মোকাবেলায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, নিত্যপণ্যে ভর্তুকি প্রদান এবং মোবাইল মাধ্যমে নগদ সহায়তা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে ধনীদের ওপর প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা চালু ও বিলাসপণ্যে শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে, যাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর অতিরিক্ত বোঝা না পড়ে। ’

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাব বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে। আসন্ন বাজেটে এই শ্রেণির জীবনযাত্রার মান রক্ষা ও আর্থিক চাপে সস্তা আনতে সরকারকে কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সর্বপ্রথম নিত্যপণ্যের ওপর মূল্য সহনীয় করার জন্য বাজারে সরবরাহ বাড়াতে হবে এবং টিসিবির মাধ্যমে এ পণ্যগুলো ন্যায্যমূল্যে সরবরাহের পরিধি ও পরিমাণ বাড়ানো দরকার।

একইসঙ্গে, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য নির্দিষ্টভাবে নগদ সহায়তা বা টার্গেটেড ক্যাশ ট্রান্সফার চালু করা যেতে পারে। এ ছাড়া খাদ্য ও জ্বালানি আমদানির ওপর শুল্ক ও ভ্যাট হ্রাস করে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ও আবাসন খাতে সরকারি সহায়তার সুযোগ বাড়ালে তাদের জীবনযাত্রা সহজ হবে এবং ভোগ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ’

সূত্র: কালের কণ্ঠ

অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উত্তরখানে খ্রিষ্টান পরিবারের জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ

১

‘অসৎ মানুষের হাতে এআই গেলে ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে’

২

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র / বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেয়নি পাকিস্তান

৩

শহীদ তাজুলের স্মৃতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তরুণ প্রজন্ম

৪

ফুলেল শ্রদ্ধায় শহীদ মিনারে আখতার হুসেনকে শেষবিদায়

৫

রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া

৬

জামায়াত এমপি নজরুলের বাসায় উদ্ধারকৃত চিঠিতে মরিয়মের যা লেখা

৭

জামায়াত এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও প্ররোচনার মামলা

৮

সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড: কবিতা, গান ও ক্যানভাসে শরণার্থী জীবনের করুণ আখ্যান

৯

যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ শর্ত দিল ইরান, না মানলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ’

১০

নজিরবিহীন জালিয়াতি / বাংলাদেশ ব্যাংকে পদ ছাড়াই ৩৬৫ জনের নিয়োগ ও পদোন্নতি

১১

অপ্রতিম হত্যা: কিশোর গ্যাং, অপরাধ চক্র ও পুলিশের ভূমিকা

১২

আজ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’

১৩

‘বারবার মামলা না দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলেন’

১৪

আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

১৫

সিঙ্গাপুরেও মিলল বাড়ি ও ব্যাংক হিসাব / সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের ১০ হাজার কোটি টাকার বিদেশি সম্পদ জব্দ

১৬

​​​​​​​শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে ৩ জনের লাশ উদ্ধার

১৭

মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠক: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সংলাপ ও নিরাপদ সমুদ্রপথের তাগিদ

১৮

গুলশানে আ’লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৩২

১৯

সমকাল কার্যালয়ে সাবেক ব্যুরো প্রধানের লাশ উদ্ধার

২০