

কক্সবাজারে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলা সদর হাসপাতালের ২০ শয্যার বিশেষ ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে’ বর্তমানে শয্যা সংখ্যার চেয়ে চার গুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার (১১ মে) সেখানে ৮৭ জন শিশুকে ভর্তি থাকতে দেখা গেছে, যা কোনো কোনো সময় ১১০ জনও ছাড়িয়ে যাচ্ছে । জায়গার তীব্র সংকটে হাসপাতালের মেঝেতেই শিশুদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ।
হাসপাতালের করুণ চিত্র: এক বেডে ৪ শিশু
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার বিপরীতে হামের জন্য নির্ধারিত ২০ শয্যার ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই । সরেজমিন দেখা গেছে, একটি বেডেই গাদাগাদি করে ২ থেকে ৪টি শিশুকে রাখা হয়েছে । যারা বেড পায়নি, তাদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে কিংবা স্বজনদের কোলে ।
তীব্র জনবল ও সরঞ্জাম সংকট
রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা। বর্তমানে ৮৭ শিশুর জন্য এক শিফটে মাত্র ১ জন মেডিকেল অফিসার, ২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ৬ জন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ: সিরাজুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক জানান, চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নেবুলাইজার মেশিনেরও অভাব রয়েছে, বাধ্য হয়ে তিনি নিজেই নতুন মেশিন কিনে এনেছেন।
দুর্ব্যবহারের অভিযোগ: জয়নাল আবেদীন নামে এক পিতা অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় মুহূর্তে নার্সদের ডাকলে সহযোগিতার বদলে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে।
৪১ দিনে প্রাণ গেল ১৭ শিশুর
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজারে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৭৮৮ জন চিকিৎসা নিয়েছে ।
শনাক্ত: ৪২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৯ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে ।
মৃত্যু: গত ৪০-৪১ দিনে জেলায় মোট ১৭ জন শিশু মারা গেছে ।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শান্তনু ঘোষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৩ জন। তিনি স্বীকার করেন যে, মাত্র ৫ জন চিকিৎসক দিয়ে এই বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া গেলে সেবার মান বাড়ানো সম্ভব হতো বলে তিনি মন্তব্য করেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অতিরিক্ত বেড স্থাপন করাও সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
কক্সবাজারে হামের এই মহামারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত জনবল বৃদ্ধি এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা প্রয়োজন। অন্যথায় শয্যা ও চিকিৎসক সংকটে মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সূত্র: কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়।
মন্তব্য করুন